বিশ্বকাপের টিকিটে ১২ কোটির বেশি আবেদন, বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচেও বিপুল আগ্রহ

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো প্রায় এক বছর বাকি। তবে টুর্নামেন্ট ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এরই মধ্যে পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। টিকিট কেনার সুযোগ পেতে বিশ্বজুড়ে জমা পড়েছে ১২ কোটির বেশি আবেদন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ও ফাইনালের পাশাপাশি ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে অন্য ম্যাচগুলো ঘিরেও। এমনকি নামিবিয়ায় বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের টিকিটের জন্যই আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৯ লাখ। বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে দর্শকদের এই বিপুল আগ্রহের তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সোমবার (২ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, ১ নভেম্বর পর্যন্ত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য মোট ১২ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ৪৬৭টি আবেদন জমা পড়েছে। বিশ্বের ১৯৩টি দেশের প্রায় ২৮ লাখ স্বতন্ত্র সমর্থক টিকিট কেনার সুযোগ পেতে নিবন্ধন করেছেন। আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকায় সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।
এবারের বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ব্যালট পদ্ধতি চালু করেছে আইসিসি। গত ১ অক্টোবর থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। দর্শকেরা নিজেদের পছন্দের ম্যাচের জন্য আবেদন করতে পারছেন। তবে আবেদন করলেই টিকিট পাওয়া নিশ্চিত নয়। চাহিদা বেশি হলে দৈবচয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে কারা টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন।
আইসিসির তথ্যমতে, এরই মধ্যে বিভিন্ন ম্যাচের জন্য সাড়ে ৩ কোটির বেশি ম্যাচভিত্তিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। একজন সমর্থক একাধিক ম্যাচের জন্য আবেদন করতে পারায় এই সংখ্যা নিবন্ধিত ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে ১২ কোটির বেশি আবেদনও আলাদা দর্শকের সংখ্যা নয়, বরং আবেদন করা মোট টিকিটের হিসাব।
সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে আগামী বছরের ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে। ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের টিকিটের জন্য এখন পর্যন্ত ৮৩ লাখ ৯৭ হাজার ২৯৪টি আবেদন জমা পড়েছে।
এর পরেই রয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। আগামী বছরের ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিতব্য শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিটের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৭৯ লাখ ৯৪৪টি। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রায় এক বছর আগেই এই দুই ম্যাচের জন্য এত বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য খবর। আগামী বছরের ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার উইন্ডহুকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিতব্য সেই ম্যাচের টিকিটের জন্যই প্রায় ৯ লাখ আবেদন জমা পড়েছে।
নামিবিয়ায় বিশ্বকাপের মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিনটি প্রাথমিক সুপার সিরিজের এবং বাকি তিনটি গ্রুপ পর্বের। এই ছয় ম্যাচের টিকিটের জন্য এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে শুধু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের চাহিদাই দেশটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর মোট টিকিট আবেদনের বড় অংশ।
বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকিটের চাহিদা দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটির আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ৪১টি ম্যাচ। এসব ম্যাচের জন্য ১০ কোটি ৫০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য সুপার সেভেন পর্বের ম্যাচসহ মোট ১১টি ম্যাচের টিকিটের জন্য প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ আবেদন পাওয়া গেছে। দেশের মাটিতে আবারও ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অন্যতম সহ-আয়োজক জিম্বাবুয়েতেও টিকিটের চাহিদা কম নয়। দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোর জন্য মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ১৯০টি আবেদন জমা পড়েছে।
জিম্বাবুয়েতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা আগামী ২৪ অক্টোবর ভারত ও স্বাগতিকদের লড়াই ঘিরে। ভিক্টোরিয়া ফলসের নতুন মোসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটির জন্যই ৩৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
মহাদেশভিত্তিক হিসাবেও আফ্রিকা থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াসহ মহাদেশটির বিভিন্ন দেশ থেকে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৮টি টিকিটের আবেদন পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে আবেদনকারীদের দেশভিত্তিক তালিকায় এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটের প্রচলিত শক্তিগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সমর্থকদের আগ্রহও বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আবেদন তুলে ধরছে।
দর্শকদের এমন সাড়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক গৌরব সাক্সেনা। তার মতে, টিকিটের বিপুল চাহিদা বিশ্বকাপের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং ২৪ বছর পর আফ্রিকায় পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফেরার গুরুত্ব তুলে ধরছে।
সাক্সেনা জানিয়েছেন, তিন আয়োজক দেশেই যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বাকি সমর্থকদেরও আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী কন্দিসা এনগুয়েনিয়াও দর্শকদের সাড়াকে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এই টুর্নামেন্ট শুধু ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের সামনে আফ্রিকার সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও পর্যটনকে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি করবে।
আগামী বছরের ২ অক্টোবর শুরু হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার ১২টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৫৭টি ম্যাচ। ১৪ দলের এই আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২১ নভেম্বর।
বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য আবেদন করা যাবে আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। মধ্য আফ্রিকার সময় অনুযায়ী রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে নিবন্ধন। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী শেষ সময় ২২ নভেম্বর ভোর ৩টা ৫৯ মিনিট।
ব্যালটে অংশ নিতে কোনো অর্থ দিতে হবে না। একজন সমর্থক একাধিক ম্যাচের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে একই ম্যাচের জন্য একজনের একাধিক ব্যালট এন্ট্রি গ্রহণ করা হবে না। একটি ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ চারটি টিকিট চাওয়া যাবে।

