টেস্ট ক্রিকেট ভুল ক্ষমা করে না, হারের পর বললেন শান মাসুদ

মিরপুরে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের হারের পর অজুহাত খুঁজলেন না পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বারবারই ফিরলেন একই জায়গায়। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ভুলের সুযোগ খুব কম। পাঁচ দিনের ম্যাচে যে দল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ভালোভাবে সামলাতে পারে না, শেষ পর্যন্ত ফলও তাদের বিপক্ষে যায়।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান পিছিয়ে পড়েছিল। এরপর ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পারেনি সফরকারীরা। শান মনে করেন, পুরো ম্যাচকে একটি ঘটনা বা একটি আউটে আটকে রাখা ঠিক হবে না। বরং ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, সব জায়গায় পাকিস্তানের এমন কিছু মুহূর্ত ছিল, যেখানে আরও ভালো করা যেত।
শান বলেন, ‘পুরো পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচকে একটি ডিসমিসাল বা একটি ঘটনায় নামিয়ে আনা যায় না। দল হিসেবে আমাদের অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে।’
তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, শেষ দিকে দুই সেট ব্যাটসম্যান আরেকটু সময় ব্যাট করতে পারলে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত। তার ধারণা ছিল, আরও আধা ঘণ্টা বা ৪০ মিনিট উইকেট না পড়লে বাংলাদেশও হয়তো একটু রক্ষণাত্মক হয়ে যেত, কারণ আলোও তখন কমে আসছিল।
শানের কথায়, ‘ওই সময়ে যখন জুটি ছিল, আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাবছিলাম, ওরা আর আধা ঘণ্টা বা ৪০ মিনিট ব্যাট করতে পারলে হয়তো বাংলাদেশ একটু পিছিয়ে যেতে পারত। আলোও তখন কমে আসছিল।’
বাংলাদেশের বোলিং নিয়েও সতর্ক ভাষায় কথা বলেছেন শান। তিনি নির্দিষ্ট কোনো বোলারকে আলাদা করে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে চাননি, তবে স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভালো বল করেছে এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাকিস্তানকে ভুল করতে বাধ্য করেছে।
শান বলেন, ‘ওর (নাহিদ রানা) মান অবশ্যই আছে। সে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভালো বল করেছে। তবে আমাদের জন্য হতাশার, কারণ ওই সময়ে আমরা এমন অবস্থায় ছিলাম, যেখানে দুই সেট ব্যাটসম্যান আরেকটু বেশি সময় ব্যাট করলে ম্যাচটা ড্রয়ের দিকে নিতে পারতাম।’
ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার বড় জায়গা হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের তৃতীয় উইকেট জুটির কথাও বলেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ৩১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক ১৭০ রানের জুটি গড়েন। শান্ত করেন ১০১, মুমিনুল ৯১। শানের চোখে সেই জুটিই পাকিস্তানের তৈরি করা চাপ অনেকটা নষ্ট করে দেয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুইবারই প্রথম ঘণ্টায় খুব ভালো বল করেছি। দ্রুত দুই উইকেট নিয়েছি, সেটাই আপনি চান। আপনি চান, মিডল অর্ডার যেন কঠিন বল ও বোলারদের নিয়ন্ত্রণের সময়ে ব্যাট করতে আসে। কিন্তু শান্ত ও মুমিনুলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তবে বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা মনে করি, সেখানেই ম্যাচটা হাতছাড়া করেছি।’
মিরপুরের উইকেট নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই শানের। বরং তাঁর চোখে এটি ছিল ভালো টেস্ট উইকেট। এখানে পেসার, স্পিনার ও ব্যাটসম্যান, সবার জন্যই কিছু ছিল। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট স্পিনারদের কাছে গেলেও শান মনে করেন, পেসারদের তৈরি করা চাপই স্পিনারদের উইকেট পেতে সাহায্য করেছে।
শানের ভাষায়, ‘এটা খুব ভালো টেস্ট উইকেট ছিল। সবার জন্য কিছু ছিল। ব্যাটিং, বোলিং, সবকিছুর জন্যই। প্রথম ইনিংসে আমরা সাত উইকেট হারিয়েছি স্পিনারদের কাছে, কিন্তু আমার মনে হয়েছে পেসাররাই আসলে ভালো বল করে চাপ তৈরি করেছিল, আর স্পিনাররা সেই চাপ ধরে রেখে উইকেট পেয়েছে।’
পাকিস্তানের সিনিয়র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শান সরাসরি কাউকে দায়ী করেননি। তিনি বলেন, পরাজয়ের পর আবেগ বেশি থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাস্তবতা বিবেচনা করে। দলের কাঠামো একেবারে বদলে ফেলা বা শুধু অভিজ্ঞদের ওপর নির্ভর করা, কোনো চরমপন্থাকেই সমাধান মনে করছেন না পাকিস্তান অধিনায়ক।
উর্দুতে দেওয়া উত্তরে শান বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট ক্ষমা করে না। যতক্ষণ আপনি ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিখুঁত খেলা খেলতে পারবেন না, যত বেশি ভুল করবেন, ততই ফল আপনার বিপক্ষে যাবে।’
শান দায় এড়াননি। বরং বলেছেন, জবাবদিহি ও দায়িত্ব নিতে হবে পুরো দলকেই। সামনে দ্বিতীয় টেস্ট। পাকিস্তান অধিনায়কের আশা, মিরপুরের ভুলগুলো ঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে পরের ম্যাচে আর পুনরাবৃত্তি করবে না তার দল।হয়।”



