দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাবল সেঞ্চুরিতে সাকিব-মুশফিকের পাশে হৃদয়

জাতীয় দলের হয়ে এখনো সাদা বলের ক্রিকেটেই নিয়মিত তাওহীদ হৃদয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি করে লাল বলের ক্রিকেটেও নিজের সামর্থ্য দেখালেন তিনি। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নাম লিখিয়েছেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও শাহরিয়ার হোসেনের পাশে।
পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে ৩৩৯ বলে ২০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। তার ইনিংসে রয়েছে ২২টি চার ও একটি ছক্কা। ৩৩৫ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।
বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের মাত্র চতুর্থ ব্যাটসম্যান হৃদয়। তার আগে এই কীর্তি ছিল শাহরিয়ার হোসেন, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের।
তালিকায় প্রথম নামটি শাহরিয়ারের। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের প্যাট্রনস ট্রফিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন সাবেক এই ওপেনার।
২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০ রান করেন মুশফিক। সেটি ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি। চার বছর পর ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব। এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের বাইরে দুই শ পেরিয়ে তাদের তালিকায় যুক্ত হলেন হৃদয়।
হৃদয়ের এটি প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বিসিবি দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ২১৭ রান করেছিলেন তিনি। সেটিই এখনো তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংস।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২০১। হৃদয় তখন ৭৫ এবং জাকের আলী ৬৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
তৃতীয় দিনে দুজনের জুটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়। পঞ্চম উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ১৫১ রান। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি জাকের। ১৬৮ বলে ১১টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৯৪ রান করে আউট হন তিনি।
জাকের ফেরার পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের জুটিতে আসে ১৮৫ রান। ১৭১ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৮৭ রান করেন সাইফউদ্দিন। দিনের শেষ বলে তিনি আউট হলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তখনো ৪১ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা। হৃদয়ের সঙ্গে চতুর্থ দিনের ব্যাটিং শুরু করার অপেক্ষায় আছেন নাঈম হাসান।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বড় সংগ্রহে সেঞ্চুরি করেন সিনেথেম্বা কেশিলে ও লেসেগো সেনোকোয়ানে। কেশিলে ১২৮ এবং সেনোকোয়ানে করেন ১১১ রান। গ্যাভিন কাপলানের ব্যাট থেকে আসে ৯৭ রান। বাংলাদেশের নাঈম হাসান চারটি ও হাসান মুরাদ তিনটি উইকেট নেন।
দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’। তাই শেষ ম্যাচে অন্তত ড্র নিশ্চিত করতে হৃদয়ের এই ইনিংস বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই ডাবল সেঞ্চুরি তাঁর লাল বলের ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে থাকল।
জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে পরিচিত মুখ হলেও এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি হৃদয়ের। দক্ষিণ আফ্রিকার গতি ও বাউন্সের পরিবেশে খেলা ধৈর্যশীল এই ইনিংস নির্বাচকদের সামনে তাঁর টেস্ট সম্ভাবনাও নতুন করে তুলে ধরল।



