রেকর্ডের পর রেকর্ড বাংলাদেশের, বিশ্বকীর্তি অস্ট্রেলিয়ারও
-40ec9b.webp)
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনটি শুধু বাংলাদেশের দাপটের নয়, রেকর্ডেরও। ৪২৬ রানের ইনিংস, ১৩৮ ওভার ব্যাটিং এবং ২২৮ রানের লিডে একাধিক পুরোনো রেকর্ড নতুন করে লিখেছে বাংলাদেশ। জশ হ্যাজেলউডের ৩০০তম উইকেটের সুবাদে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণও।
সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ
বাংলাদেশের ৪২৬ এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে করা ২৯৫ রান। অর্থাৎ আগের রেকর্ডটি ১৩১ রানে ছাড়িয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম চারশ ছাড়ানো ইনিংসও এটি।
ভেঙেছে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের রেকর্ডও। এই মাঠে আগের সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ ছিল অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেটে ৪০৭ রান। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই সেই ইনিংস খেলেছিল স্বাগতিকেরা। ২৩ বছর পর ১৯ রান বেশি করে রেকর্ডটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
এক রানের ব্যবধান
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ডটি অবশ্য অক্ষত রয়েছে মাত্র এক রানের ব্যবধানে। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় বাংলাদেশ করেছিল ৪২৭ রান। ডারউইনের ৪২৬ তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ।
দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংস
রানের পাশাপাশি ইনিংসের দৈর্ঘ্যেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাট করেছে ১৩৮ ওভার, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংস। আগের রেকর্ড ছিল ফতুল্লার সেই ম্যাচের ১২৩ ওভার ৩ বল। এবার তারা ব্যাট করেছে আরও ১৪ ওভার ৩ বল বেশি।
আরও বড় পরিসরে দেখলেও বাংলাদেশের ধৈর্যের আলাদা মূল্য আছে। গত সাত বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী দল এক ইনিংসে এত বেশি ওভার ব্যাট করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়াকেও প্রায় দুই বছর পর এত দীর্ঘ সময় ফিল্ডিং করতে হলো। তাদের আগের দীর্ঘতম অপেক্ষা ছিল পার্থে ভারতের বিপক্ষে ১৩৪ ওভার ৩ বল।
বড় লিড
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রেকর্ডটি হয়েছে লিডে। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ করে বাংলাদেশ পেয়েছে ২২৮ রানের প্রথম ইনিংস লিড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ লিড ছিল ১৫৮ রান, ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে। নতুন রেকর্ডটি আগেরটির চেয়ে ৭০ রান বেশি।
সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংস লিড
বিদেশের মাটিতেও এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংস লিড। আগের রেকর্ড ছিল ২০২১ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাওয়া ১৯২ রানের লিড। ডারউনে সেটিও ৩৬ রানে পেছনে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রথমবার প্রথম ইনিংস লিড নেওয়ার ঘটনাও এটি। দেশটিতে আগের দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
রেকর্ডের ইনিংসটির ভিত্তি গড়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের দিন ১০১ রান করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হয়েছিলেন তিনি। শান্ত করেন ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ এবং মুমিনুল হক ৪৯ রান। শেষ চার ব্যাটারকে সঙ্গে নিয়ে মিরাজ উইকেটে ছিলেন ৫২ ওভার ৩ বল। হাসান মাহমুদ খেলেছেন ৯২ বল, আর অপরাজিত ১৪ রানের জন্য তাসকিন আহমেদ ব্যাট করেছেন ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট।
হ্যাজেলউডের রেকর্ড
বাংলাদেশের রেকর্ডের ভিড়ে অস্ট্রেলিয়ার আনন্দের উপলক্ষ হ্যাজেলউড। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের চারটি উইকেটই নিয়েছেন তিনি। মিরাজকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেছেন ৩০০ টেস্ট উইকেট, পরে এবাদত হোসেনকে আউট করে ইনিংস শেষ করেছেন ৮৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে। ক্যারিয়ারে তার উইকেট এখন ৩০১টি।
হ্যাজেলউড অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। এটি তার ১৪তম পাঁচ উইকেট এবং চতুর্থ ছয় উইকেটের সাফল্য। নয় বছর পর টেস্টে প্রথমবার ছয় উইকেট পেলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ৩০০ উইকেটধারীদের মধ্যে তার ২৪.০২ গড়ের চেয়ে ভালো গড় আছে শুধু গ্লেন ম্যাকগ্রা, প্যাট কামিন্স ও ডেনিস লিলির।
অজিদের রেকর্ড
হ্যাজেলউডের ৩০০তম উইকেটে বিশ্বরেকর্ডও হয়েছে। নাথান লায়ন, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও হ্যাজেলউডকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াই এখন টেস্ট ইতিহাসের প্রথম বোলিং আক্রমণ, যার চার সদস্যই একসঙ্গে খেলার সময় ৩০০ উইকেটের মালিক। বাংলাদেশের ইনিংস শেষে চারজনের উইকেট যথাক্রমে ৫৬৮, ৪৩৫, ৩১৬ ও ৩০১টি।
মাইলফলকটি নিয়ে হ্যাজেলউড বলেন, ‘খেলার সময় এসব নিয়ে খুব একটা ভাবা হয় না। সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষে ফিরে তাকালে এর মূল্য বোঝা যাবে। তালিকার অন্য নামগুলো দেখতে ভালো লাগছে, আর তাদের তিনজনের সঙ্গেই আমি খেলছি। ব্যাপারটি দারুণ।’
রেকর্ডের দিনে অল্পের জন্য আরেকটি বিশ্বরেকর্ড হয়নি। আগের দিন তিনটি ক্যাচ নিয়ে উইকেটরক্ষক নন এমন ফিল্ডারদের মধ্যে জো রুটের সর্বোচ্চ ২১৮ ক্যাচের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন স্টিভ স্মিথ। তৃতীয় দিনে তাসকিনের সহজ ক্যাচটি ধরে রাখতে পারলে এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নিতে পারতেন তিনি।
দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলেও বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ফিরিয়েছেন দুই ওপেনারকে। ম্যাচে তার উইকেট এখন আটটি। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও মিরাজ। অপরাজিত ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করবেন।
ইতিহাসও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। নিজেদের মাঠে ২০০ রানের বেশি প্রথম ইনিংস ঘাটতি নিয়ে তারা টেস্ট জিতেছে মাত্র একবার। ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রানে পিছিয়ে থেকেও জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ডারউনে তাদের ঘাটতি ছিল আরও বড়, ২২৮ রানের।




