৯৩ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়

অভিষেক টেস্টেই বল হাতে মায়াবী স্পিনজাদু দেখালেন মানব সুথার। এই তরুণ বাঁহাতি স্পিনারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত।
মুল্লানপুরে একমাত্র টেস্টটি শেষ হয়েছে মাত্র তিন দিনেই। আর ব্যবধানের হিসাবে এটি ভারতের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনিংস জয়ের নতুন রেকর্ড। ভারত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৬৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করার পর, পাহাড়সম রানের চাপে প্রথম ইনিংসেই ভেঙে পড়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। সুথারের বিষাক্ত ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে তারা অলআউট হয় মাত্র ১৫২ রানে। এরপর ফলোঅন করতে নেমেও ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি সফরকারীরা; দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৫.৫ ওভারে ১১২ রানেই গুটিয়ে যায় রশিদ খানের দেশ।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কেবল রেকর্ড ব্যবধানের জয়ই নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটে মানব সুথারের মতো এক নতুন তারকার রাজকীয় উত্থান। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের এই বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার প্রথম ইনিংসে ২২ ওভারে ১০টি মেডেনসহ মাত্র ৩৩ রান খরচায় তুলে নেন ৬টি উইকেট। অভিষেক টেস্টে তার লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতা, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং চাপ তৈরি করার ক্ষমতা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে ভবিষ্যতের এক বড় ইতিবাচক বার্তা দিল। প্রথম ইনিংসে আফগানদের পক্ষে যা একটু লড়াই করেছিলেন রহমত শাহ (৬০), কিন্তু বাকিদের মধ্যে উইকেটে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় ধৈর্য দেখা যায়নি।
দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা আক্রমণাত্মক শুরুর চেষ্টা করেছিলেন সেদিকুল্লাহ আতাল (৪২) ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ (২৪)। তবে বড় জুটির অভাবে ওয়াশিংটন সুন্দরের অফস্পিন (৩৬ রানে ৪ উইকেট) এবং কুলদীপ যাদবের (৩ উইকেট) জাদুকরি ঘূর্ণির সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ইনিংস। প্রথম ইনিংসের নায়ক সুথার এবার পান ১টি উইকেট। মূলত আফগান ব্যাটারদের টেস্ট মেজাজের অভাব এবং অযথা আক্রমণাত্মক শট খেলতে যাওয়ার মাশুল দিতে হয়েছে দলটিকে।
টেস্ট ইতিহাসে ভারতের বৃহত্তম ইনিংস জয়সমূহ:
- ইনিংস ও ৩০০ রান — বনাম আফগানিস্তান (মুল্লানপুর, ২০২৬)
- ইনিংস ও ২৭২ রান — বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (রাজকোট, ২০১৮)
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বিদায় এবং রবীন্দ্র জাদেজার ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে ভারতের স্পিন আক্রমণের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, সুথারের এই স্বপ্নের পারফরম্যান্স সেখানে নতুন এক আশার আলো দেখাল।
অন্যদিকে, সাদা বলের ক্রিকেটে পরাশক্তি হলেও লাল বলের দীর্ঘ সংস্করণে আফগানিস্তানের অনভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা ভারতের চেনা কন্ডিশনে আরও একবার উন্মোচিত হলো।
