টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন শান মাসুদ

বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন শান মাসুদ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে ৭৮ রানে হারের পর তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে পাকিস্তানের লাল বলের অধিনায়ক করা হয়েছিল মাসুদকে। নেতৃত্বের প্রথম সিরিজেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান। এরপর থেকে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার সময়টা খুব একটা স্বস্তির হয়নি।
মাসুদের অধীনে এখন পর্যন্ত ১৬টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে জয় ৪টি, হার ১২টি। জয়ের হার ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে।
সিলেট টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি পদত্যাগের ঘোষণা দেননি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিওর দাবি বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারার পর অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শান মাসুদ। তাদের দাবি শান মাসুদ তার ক্লোজ সার্কেলে জানিয়েছে সে আর অধিনায়কত্ব করতে চায় না। তবে পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরে তিনি জানান, তার লক্ষ্য সব সময়ই ছিল দলকে উন্নতির পথে নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দল গঠন ও কৌশলগত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।
মাসুদ বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটে কোনো দায়িত্ব নিয়ে থাকি, সেটা টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির জন্যই। কিছু বিষয় আছে, যা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা ও বিতর্কের দাবি রাখে। শেষ সিদ্ধান্ত সব সময় বোর্ডেরই।’
পাকিস্তান অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সব সময় ছিল এই দলকে কীভাবে উন্নত করা যায়, সেই পথ খোঁজা। চ্যালেঞ্জ নিতে হয়, সুযোগও গ্রহণ করতে হয়।’
নেতৃত্ব থাকুক বা না থাকুক, পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা একই থাকবে বলেও জানিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান। তার ভাষায়, ‘যে অবস্থাতেই থাকি, আমার চেষ্টা একই থাকবে। শুধু অধিনায়কের চেয়ারে বসে বা খেলোয়াড় হিসেবে কথা বলতেই হবে, এমন নয়। জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, আমরা জানি না। তবে এই জার্সি আমি গর্বের সঙ্গে পরেছি এবং এই কাজের জন্য সবকিছু পাশে সরিয়ে রেখেছি।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের বড় সমস্যাগুলোও সামনে এনেছেন মাসুদ। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ছোট ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হয়। তাই হুট করে পরিবর্তনের চেয়ে ভুল কমানো ও উন্নতির জায়গাগুলোতে কাজ করাই বেশি জরুরি।
মাসুদ বলেন, ‘পরিবর্তনের চেয়ে আমাদের দেখতে হবে কোথায় উন্নতি করা যায়, কীভাবে ভুল কমানো যায়। টেস্ট ক্রিকেটে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। পাঁচ দিনের ম্যাচে এসব ভুল খুব মূল্যবান হয়ে ওঠে।’
সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ৪৩৭ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৯৪, শান মাসুদের ৭১ ও সালমান আগার ৭১ রানের লড়াইয়ের পরও পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৫৮ রানে। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রানে ৬ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম।
এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। সিলেটের পরাজয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে। এই হোয়াইটওয়াশের পর পাকিস্তানের টেস্ট নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
