logo

১১ বছর পর ঘরের মাঠে বাদ পড়ার শঙ্কায় তাইজুল

১১ বছর পর ঘরের মাঠে বাদ পড়ার শঙ্কায় তাইজুল
তাইজুল ইসলাম। পুরোনো ছবি

দেশের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট একাদশে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত মুখ তাইজুল ইসলাম। তবে এবার সেই জায়গাটিই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ চার টেস্টে মাত্র পাঁচ উইকেট নেওয়া অভিজ্ঞ এই স্পিনারের ফর্ম নিয়ে প্রকাশ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে দুই ডানহাতি স্পিনার নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। তাতে দীর্ঘ ১১ বছর পর ঘরের মাঠে একাদশ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় তাইজুল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে আট উইকেটে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজ বাঁচাতে জয়ের বিকল্প নেই নাজমুল হোসেন শান্তর দলের।

বুধবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাইজুলের ফর্ম নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কারণ, সে আমাদের দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার। আমি নিশ্চিত, বিষয়টি তার নিজের জন্যও উদ্বেগের।’

সর্বশেষ চার টেস্টে তাইজুলের শিকার মাত্র পাঁচ উইকেট। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭৬ রানে দুই উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন উইকেটশূন্য। ১২ দশমিক ১ ওভারে খরচ করেন ৫৪ রান। অথচ একই ম্যাচে ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান দুই ইনিংসে নেন ৯ উইকেট।

এর আগে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪৮ ওভার বোলিং করেও মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিলেন তাইজুল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের দুই টেস্টেও তার শিকার ছিল একটি করে উইকেট।

এমন পরিস্থিতিতে সিলেট টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানকে নিয়ে স্পিন আক্রমণ সাজাতে পারে বাংলাদেশ। দুই ডানহাতি স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সিমন্স বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে ভাবতেই হবে। কিছুক্ষণ পর যখন আমরা আলোচনা করতে বসব, তখন অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।’

শেষ পর্যন্ত বাদ পড়লে দীর্ঘ ১১ বছরের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়বে তাইজুলের। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই মিরপুরে শুরু হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে ঘরের মাঠে একাদশের বাইরে ছিলেন তিনি। এরপর থেকে দেশের মাটিতে নিয়মিত খেলেছেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারি।

তবে শুধু ফর্ম নয়, তাইজুলের কাঁধের অস্বস্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে তার বোলিং করা কাঁধে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যদিও সিমন্সের দাবি, বর্তমানে পূর্ণ শক্তিতে বোলিং করছেন তাইজুল। অনুশীলনেও কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সিলেটের উইকেটে ঘাস থাকায় তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে মিরাজ ও নাঈমের সঙ্গে জায়গার লড়াইয়ে পড়তে পারেন তাইজুল।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। অনুশীলন শেষে টিম ম্যানেজমেন্টের আলোচনার ওপরই নির্ভর করবে একাদশের সমন্বয়। তাইজুল শেষ পর্যন্ত জায়গা ধরে রাখতে পারবেন, নাকি ১১ বছর পর ঘরের মাঠে টেস্ট একাদশের বাইরে থাকতে হবে, সেটিই এখন দেখার।

নুরসাদ আমিন

সম্পাদনা

নুরসাদ আমিন

স্পোর্টস রিপোর্টার | এশিয়া পোস্ট