logo
সিলেট টেস্ট

ধসের মুখে লিটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

ধসের মুখে লিটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
লিটন দাস। ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে বাংলাদেশের ইনিংস তখন ভাঙনের মুখে। ৩ উইকেটে ১০১ থেকে দ্রুত স্কোর দাঁড়িয়েছিল ৬ উইকেটে ১১৬। শান্ত, মুশফিক, মিরাজ তিনজনই ফিরে গেছেন অল্প ব্যবধানে। পাকিস্তানের পেসাররা ছন্দে, সাজিদ খান এক প্রান্ত থেকে চাপ ধরে রেখেছেন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে ছিল দুইশ রানও দূরের পথ। সেই জায়গা থেকেই ইনিংসের গল্প পাল্টে দিলেন টাইগারদের উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস।

চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে দারুণ এক টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭২ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৫৫ রান তোলার পথে লিটন অপরাজিত ১১১ রানে। ১৪২ বলের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা।

লিটনের সেঞ্চুরিটা এসেছে দাপুটে ভঙ্গিতে। খুররম শাহজাদের ওভারে ব্যাকফুট পাঞ্চে চার মেরে তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি। পরের বলেই শর্ট বল পুল করে ছক্কা হাঁকান। বিপদের সময় খেলা এই ইনিংসটি লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়।

বাংলাদেশের ইনিংসে লিটন নামেন বড় চাপে। শুরুতেই মাহমুদুল হাসান জয় ফিরেছেন শূন্য রানে। অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ২৬, মুমিনুল হক ২২, শান্ত ২৯ ও মুশফিকুর রহিম ২৩ রান করলেও কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। লাঞ্চের পর মুশফিক ও মিরাজের দ্রুত বিদায়ে বাংলাদেশ যখন ৬ উইকেটে ১১৬, তখনই দায়িত্বটা পুরোপুরি এসে পড়ে লিটনের কাঁধে।

সেই দায়িত্ব সামলেছেন ধৈর্য ও পাল্টা আক্রমণের মিশেলে। শুরুতে উইকেট বাঁচিয়ে খেলেছেন, পরে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি বের করেছেন। হাসান আলীর শর্ট বল পুল করেছেন, স্কয়ার কাটে রান তুলেছেন, স্পিনের বিপক্ষেও পা ব্যবহার করেছেন। তবে ইনিংসে ভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে সাজিদ খানের বলে জীবন পান লিটন, বোলারের হাতেই ক্যাচ উঠলেও তা ধরতে পারেননি সাজিদ।

এরপর আর সেই সুযোগ দেননি লিটন। সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। তাইজুলের ৪০ বলে ১৬ রানের ইনিংস সংখ্যায় ছোট হলেও ম্যাচের পরিস্থিতিতে তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এক প্রান্তে লিটনকে সময় দিয়েছেন তিনি।

তাইজুল ফেরার পর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৩৮ রান যোগ করেন লিটন। তাসকিন ৭ রানে ফিরলেও নবম উইকেটে শরীফুল ইসলামকে নিয়ে আবার লড়াই চালিয়ে যান। শরীফুলকে সঙ্গী করে দলকে ২৫০ পেরিয়ে দেন তিনি। এই জুটি অবিচ্ছিন্ন ৪১ রানে দাঁড়িয়ে আছে।

পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ ৪ উইকেট নিয়ে দিনের সবচেয়ে সফল বোলার। মোহাম্মদ আব্বাস নিয়েছেন ৩ উইকেট। কিন্তু তাঁদের আগ্রাসী বোলিংয়ের মাঝেও লিটনের সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ইনিংসকে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচিয়েছে।