এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত পদকই জোটেনি। পাকিস্তানের পর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছেও বড় ব্যবধানে হারের পর নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চাইলেন তিনি।
শনিবার নিশিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। হার ৬৩ রানে।
এর আগে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছেও হেরে যায় লিটন দাসের দল। দুই প্রতিপক্ষই এশিয়ান গেমসে পূর্ণশক্তির দল পাঠায়নি। অথচ বাংলাদেশ খেলিয়েছে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন নিয়মিত ক্রিকেটারকে। তারপরও প্রথমবার এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেট থেকে পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে ফাইনালে খেলার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছিলেন সালাউদ্দিন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স ছিল তার ঠিক বিপরীত।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরুটা অবশ্য ভালো করেছিল বাংলাদেশ। মাত্র ২১ রানেই চার উইকেট তুলে নেয় বোলাররা। কিন্তু সেখান থেকে থারিন্দু রাত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
সালাউদ্দিনের চোখে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার বড় কারণ বোলিংয়ের কয়েকটি খারাপ ওভার এবং পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়।
তিনি বলেন, ‘এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট হারিয়েছি।’
বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ ওভারে ৪৩ রান দেন তিনি। আগের ম্যাচেও ছন্দে ছিলেন না বাঁহাতি পেসার।
তবে মোস্তাফিজের পাশেই দাঁড়িয়েছেন সালাউদ্দিন।
বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আসলে মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’
শুধু মোস্তাফিজ নন, অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ মিলিয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২ রান। ব্রোঞ্জের ম্যাচে প্রথম বলেই শূন্য রানে বোল্ড হন তিনি।
লিটনের ব্যর্থতা নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দেশের অন্য ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটদের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পান। তারপরও তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে পদক হারানো নিয়ে বাড়তি অনুশোচনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের মুখেও পড়েন সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই হতাশ। আমরা এখানে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু ফেইল করেছি, ভালো খেলতে পারিনি।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তাড়ায় শুরুতেই ধসে পড়ে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন; তিনজনই কোনো রান করতে পারেননি। ৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি দল।
ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে খেলোয়াড়দের চেষ্টায় ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন না সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’
