বিশ্বরেকর্ড গড়ে ভারতকে হারালেন ফিলিপস

সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে টানা হেরে আগেই সিরিজ জয়ের আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। তবে শেষ দুই ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। অকল্যান্ডে ভারতকে ৮৭ রানে হারানোর পর এবার হ্যামিল্টনে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে কিউইরা। টিম সাইফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে বিশ্বরেকর্ড গড়া ইনিংস খেলেছেন গ্লেন ফিলিপস। দ্বিপক্ষীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের নতুন কীর্তি গড়েছেন এই কিউই ব্যাটার। টানা দুই জয়ে সিরিজ শেষ করলেও পাঁচ ম্যাচের লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ভারত।
রোববার (১ নভেম্বর) হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ইশান কিশান ও শ্রেয়াস আইয়ারের ঝোড়ো ফিফটিতে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। জবাবে সাইফার্টের ৫০ বলে ৯৩ এবং ফিলিপসের ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৫ রানে ১৮ ওভারেই ৩ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। দলীয় ৯ রানে ফিন অ্যালেনকে ফিরিয়ে দেন আর্শদীপ সিং। মাত্র ২ রান করে উইকেটরক্ষক ইশান কিশানের হাতে ক্যাচ দেন কিউই ওপেনার।
তবে শুরুতেই উইকেট হারানোর চাপ বুঝতে দেননি সাইফার্ট। ড্যারিল মিচেলকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে ৪২ বলে ৭৩ রান যোগ করেন। মাত্র ১৬ বলে চার ছক্কায় ২৯ রান করে মিচেল আউট হলে ভাঙে জুটি। তাঁকে ফেরান বরুণ চক্রবর্তী।
এরপর ফিলিপসকে নিয়ে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন সাইফার্ট। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে মাত্র ৪২ বলে আসে ৮৬ রান। একের পর এক বাউন্ডারিতে ভারতের হাত থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেন তাঁরা।
বিশেষ করে সাইফার্টের ব্যাটিং ছিল চোখধাঁধানো। ৫০ বলে ১১টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৯৩ রান করেন তিনি। মাত্র সাত রানের জন্য শতক না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ১৬তম ওভারে নীতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হন তিনি। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৪ রান।
সাইফার্ট আউট হলেও জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি নিউজিল্যান্ডের। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন ফিলিপস। তার সঙ্গে এক রানে অপরাজিত ছিলেন বেভন জ্যাকবস।
এই ইনিংসেই নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ফিলিপস। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তার মোট রান দাঁড়িয়েছে ৩৪১। এর আগে পুরুষদের দ্বিপক্ষীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ ৩৩১ রানের রেকর্ড ছিল ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে এই রান করেছিলেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজে একটি শতক ও তিনটি অর্ধশতক করেছেন ফিলিপস। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৮২, দ্বিতীয় ম্যাচে ৭০ এবং চতুর্থ ম্যাচে ১০৭ রানের পর শেষ ম্যাচেও ফিফটি করেন তিনি। তাতে সল্টকে ছাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের নতুন কীর্তি গড়েছেন কিউই তারকা।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল ভারত। দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ১ রান করে ফেরেন অভিষেক শর্মা। চতুর্থ ওভারে সঞ্জু স্যামসনও আউট হলে ১৯ রানে ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা। দুই ওপেনারকেই ফেরান অ্যাডাম মিলনে।
সেখান থেকে ভারতকে উদ্ধার করেন ইশান কিশান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তৃতীয় উইকেটে মাত্র ৪৩ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তাঁরা।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৬১ রান করেন কিশান। অন্যদিকে মাত্র ২৩ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় ৫০ রান আসে আইয়ারের ব্যাট থেকে। দুজনই অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর দ্রুত সাজঘরে ফেরেন।
দলীয় ১১২ রানে কিশানকে ফেরান ব্লেয়ার টিকনার। এরপর ১২৩ রানে আইয়ারকে আউট করেন নাথান স্মিথ। একই বোলারের বলে ৬ রান করে ফেরেন তিলক বর্মাও। ১৩৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে ভারত।
শেষদিকে নামান ধীর ও নীতিশ কুমার রেড্ডির ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি পায় সফরকারীরা। ২৩ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৩ রান করেন ধীর। আর ১৭ বলে ২২ রান করেন রেড্ডি।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মিলনে। চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন এই পেসার। নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ভারত। তবে শেষ দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় দেখা গেছে সফরকারীদের বোলারদের। ফলে সিরিজের ট্রফি নিয়ে ফিরলেও টানা দুই পরাজয়ে টি-টোয়েন্টি পর্ব শেষ করতে হল শ্রেয়াস আইয়ারের দলকে। অন্যদিকে ফিলিপসের বিশ্বরেকর্ড ও সাইফার্টের বিধ্বংসী ইনিংসে জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করল নিউজিল্যান্ড।

