Advertisement

তানজিদের শতকের দিনে ভাঙল যেসব রেকর্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
তানজিদের শতকের দিনে ভাঙল যেসব রেকর্ড
ছবি: গেটি ইমেজ

প্রথম দিন বল হাতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে সেই ধারাই ধরে রাখলেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তরা। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তোলা বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে ১৫৩ রানে। এই এক দিনেই বদলে গেছে দুই দলের রেকর্ড বইয়ের বেশ কয়েকটি পাতা।

Advertisement

সবচেয়ে বড় ইতিহাসটি লিখেছেন তানজিদ। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৭ বলে ১০১ রান করেছেন বাঁহাতি ওপেনার। আটটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটির সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট শতক পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি হয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংসের রেকর্ডও এখন তানজিদের। আগের রেকর্ডটি ছিল হান্নান সরকারের। ২০০৩ সালে কেয়ার্নস টেস্টে ৭৬ রান করেছিলেন তিনি। ২৩ বছর টিকে থাকা সেই রেকর্ডকে প্রথম শতকেই পেছনে ফেলেছেন তানজিদ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে শতক পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি তানজিদ। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় ১৩৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। দীর্ঘ ২০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবার বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার তিন অঙ্কে পৌঁছালেন।

ঐতিহাসিক মুহূর্তটি নিয়ে তানজিদ বলেন, ‘মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এটি আমার জন্য খুবই বিশেষ।’

তানজিদের ব্যক্তিগত কীর্তির সঙ্গে দলীয় রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষে করা ৩৫১ রান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০০৩ সালের কেয়ার্নস টেস্টে করা ২৯৫ রান। অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনেই ২৩ বছরের আরেকটি রেকর্ড পেরিয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব ভেন্যু মিলিয়েও বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ। ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে করা ৪২৭ রান এখনো সর্বোচ্চ। তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও ৭৭ রান যোগ করতে পারলে সেই রেকর্ডও ভেঙে যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যাওয়ার কীর্তিও গড়েছে বাংলাদেশ। আগের সফরের চার ইনিংসে একবারও স্বাগতিকদের সংগ্রহ অতিক্রম করতে পারেনি তারা। এবার অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ এরই মধ্যে এগিয়েছে ১৫৩ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ১৫৮ রান। ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে সেই ব্যবধান পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে হাতে চার উইকেট রেখে রেকর্ডটি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে তারা। আরও ছয় রান যোগ করলেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংসের ব্যবধানও গড়বে বাংলাদেশ।

ব্যক্তিগত আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন অধিনায়ক শান্ত। ১২৬ বলে তাঁর করা ৮৪ রান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়কের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস। আগের রেকর্ডটি ছিল হাবিবুল বাশারের। ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে ৭৬ রান করেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে মুশফিকুর রহিম করেছিলেন ৬৮ রান।

জুটিতেও এসেছে বিরল নজির। তানজিদ ও মুমিনুল হক দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ১০২ রান। এরপর তানজিদ ও শান্তর তৃতীয় উইকেটের জুটি থেকে আসে ৯৩ রান। শান্ত ও মুশফিকুর রহিম চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন আরও ৬৬ রান।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই টেস্ট ইনিংসে বাংলাদেশের তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়ার এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা। ২০০৬ সালের পর প্রথমবার এমন কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। তানজিদ ও মুমিনুলের ১০২ রানের জুটিটি আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে হান্নান সরকার ও হাবিবুল বাশারের ১০৮ রানের জুটি এখনো শীর্ষে।

তবে শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই নন, দ্বিতীয় দিনে বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথও। দ্বিতীয় নতুন বলে শান্ত, লিটন দাস ও মুশফিকের ক্যাচ নেন তিনি। তিনটি ক্যাচের সুবাদে টেস্টে স্মিথের ক্যাচসংখ্যা হয়েছে ২১৮।

উইকেটকিপার নন এমন ফিল্ডারদের মধ্যে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড এখন যৌথভাবে স্মিথ ও ইংল্যান্ডের জো রুটের। বাংলাদেশের পরের কোনো ব্যাটারের ক্যাচ নিলেই রুটকে পেছনে ফেলে এককভাবে বিশ্বরেকর্ডের মালিক হয়ে যাবেন স্মিথ।

শেষ বিকেলে ১১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারালেও মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটিতে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। মিরাজ ৩২ ও হাসান ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। ফলে তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের সামনে আরও দুটি দলীয় রেকর্ড ভাঙার সুযোগ থাকছে।

তানজিদের শতকের দিনে ভাঙল যেসব রেকর্ড