logo

পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের
ছবি: এসিসি

শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়, পরে তাওহীদ হৃদয়ের পাল্টা লড়াই। বল হাতেও পাকিস্তানকে ৫৩ রানে ৪ উইকেটে নামিয়ে আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা টেকেনি। হাসান নওয়াজ ও আবদুল সামাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান।

বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি নেমে এসেছিল ১৩ ওভারে। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ।

শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় ওভারেই ৭ রান করে ফেরেন তানজিদ হাসান। এরপর দ্রুত ফিরে যান অধিনায়ক লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমন। ৩.২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ২১।

সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ১৭ বলে ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি। ৬.৩ ওভারে তাঁর বিদায়ে ৪৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকেই ইনিংস টেনে তোলেন হৃদয়। শুরুতে পরিস্থিতি বুঝে খেললেও পরে পাকিস্তানের স্পিনারদের ওপর চড়াও হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ২৫ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৪২ রান। বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ তাঁরই।

মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন হৃদয়। তবে শেষ দুই ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোয় আরও বড় সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া হয়। মোসাদ্দেক ১৬ বলে করেন ১১, শেষ দিকে মেহেদী হাসান ৪ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন সুফিয়ান মুকিম। ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। আরাফাত মিনহাস নেন ২টি। সাইম আইয়ুব ২ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে তুলে নেন লিটনের উইকেট।

১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও ভালো হয়নি। প্রথম ওভারের শেষ বলে অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান মেহেদী। পরের ওভারে নাসুম আহমেদের শিকার হন মাজ সাদাকাত।

চতুর্থ ওভারের মধ্যে আরও এক ধাক্কা দেয় বাংলাদেশ। ২১ রান করা সাইম আইয়ুবকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর ৬.১ ওভারে উসমান খানকে রিশাদ হোসেন আউট করলে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫৩।

সেখানেই ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

হাসান নওয়াজ ও আবদুল সামাদ পঞ্চম উইকেটে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। মাত্র ২৪ বলে তাঁদের জুটিতে আসে ৫০ রান। বিশেষ করে সামাদ বাংলাদেশের পেসারদের ওপর আক্রমণাত্মক ছিলেন। ১৫ বলেই ৩০ রানে পৌঁছে যান তিনি, মারেন ৫ চার ও ১ ছক্কা।

অন্য প্রান্তে ১৯ বলে ২৩ রান করে তাকে সঙ্গ দেন হাসান। ১১ ওভার শেষে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২ বলে মাত্র ৪ রান। সেখান থেকে আর ম্যাচ হাতছাড়া করেনি তারা, নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী ২ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। মেহেদী ৩ ওভারে ১৭ রান দিয়ে একটি উইকেট পেলেও মুস্তাফিজের দিনটা ছিল কঠিন। ২ ওভারেই তিনি দেন ৪১ রান।

কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এক বলও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর উচ্চতর র‌্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। এবার অবশ্য মাঠে নেমেই শেষ হলো বাংলাদেশের সোনার পদকের আশা।