গল টেস্টে জয়ের পথে ভারত

ঋষভ পান্তের ঝোড়ো ফিফটির পর মানব সুতারের জোড়া আঘাতে গল টেস্টে জয়ের আরও কাছে পৌঁছে গেছে ভারত। ৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৮৪ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে স্বাগতিকদের আরও ২৮৮ রান প্রয়োজন, ভারতের চাই ৬ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ১৭৮ রানের লিড পাওয়া ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। ১৯৩ রানেই অলআউট হয় সফরকারীরা। ২০১৫ সালের পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথমবার দুইশর নিচে অলআউট হলো ভারত। তবে প্রথম ইনিংসের বড় ব্যবধানের সুবাদে শ্রীলঙ্কার সামনে ৩৭২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিতে পেরেছে তারা।
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের মূল নায়ক পন্ত। অন্য ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে ফিরলেও পাল্টা আক্রমণে ৬৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।
দিনের তৃতীয় বলেই যশস্বী জয়সোয়ালকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আশাবাদী করে তোলেন স্বাগতিক বোলাররা। লোকেশ রাহুল কিছু আক্রমণাত্মক শট খেললেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বলে সুইপ করতে গিয়ে ফিরে যান শুভমান গিলও।
এক প্রান্তে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান দেবদত্ত পদিক্কাল ধৈর্য ধরে খেলছিলেন। কিন্তু পন্ত উইকেটে এসে বদলে দেন ব্যাটিংয়ের ধরন। লাহিরু কুমারাকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে আক্রমণের শুরু করেন তিনি।
২৮ রানে জীবনও পেয়েছিলেন পন্ত। স্লিপে কঠিন সুযোগটি নিতে পারেননি ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। এরপর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন ভারতীয় উইকেটকিপার।
পদিক্কাল ও ধ্রুব জুরেল ফিরে গেলেও এক প্রান্তে দ্রুত রান তুলতে থাকেন পন্ত। ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। সেটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তার শততম ছক্কা।
শেষ পর্যন্ত লাহিরু কুমারার শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলার হাতে ধরা পড়েন পন্ত। তার ৬৬ রানের ইনিংসই ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ। পদিক্কাল করেন ৪৪ রান।
শ্রীলঙ্কার হয়ে আসিথা ফার্নান্দো ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন। প্রবাথ জয়াসুরিয়া শিকার করেন ৩ উইকেট। ভারত ১৯৩ রানে অলআউট হলে স্বাগতিকদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭২।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। মোহাম্মদ সিরাজের শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে লং লেগে ক্যাচ দেন নিশান মাদুশকা।
ফিল্ডিংয়ের সময় ঘাড় ও কাঁধে আঘাত পাওয়া দিনেশ চান্দিমাল আর ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় না থাকায় তার বদলি হিসেবে অভিষেক হয় পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারার। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে ২১ রানে নামিয়ে আনেন প্রসিধ কৃষ্ণা।
ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগও পেয়েছিল ভারত। রবীন্দ্র জাদেজার বলে তার ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ হলেও পরে দেখা যায় নো বল করেছিলেন ভারতীয় স্পিনার।
তবে চাপ কমতে দেননি মানব সুতার। দুই উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি আরও কঠিন করে দেন তিনি। তার দ্বিতীয় শিকার লাহিরু উদারা। গালিতে হাঁটু গেড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন জুরেল। রিপ্লে দেখে ক্যাচটি বৈধ বলে নিশ্চিত করেন আম্পায়াররা।
পরে অবশ্য আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় জুরেলকে। তার বদলে ফিল্ডিংয়ে নামেন সরফরাজ খান।
শেষ বিকেলে আলো কমে আসার মধ্যে ধনাঞ্জয়া ও প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সোনাল দিনুশা আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ধনাঞ্জয়া ৩১ ও দিনুশা ২৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন।
তবে শেষ দিনে তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র দুবার ৩৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। গলের পঞ্চম দিনের স্পিন সহায়ক উইকেটে ভারতের ছয় উইকেট নেওয়ার লক্ষ্যও তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ৪৬২ ও ১৯৩ (ঋষভ পন্ত ৬৬, দেবদত্ত পদিক্কাল ৪৪; আসিথা ফার্নান্দো ৪/৩১, প্রবাথ জয়াসুরিয়া ৩/৪৩)। শ্রীলঙ্কা ২৮৪ ও ৮৪/৪ (ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৩১*, সোনাল দিনুশা ২৫*; মানব সুতার ২/৩০, মোহাম্মদ সিরাজ ১/১১)। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন আরও ২৮৮ রান।



