logo

বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়ে কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছেন নেইমার

বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়ে কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছেন নেইমার
নেইমার জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

চোট, অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছেন নেইমার। ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নিজেই জানিয়েছেন, দলে ডাক পাওয়ার খবর জানার পর কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছেন তিনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ হাঁটুর এসিএল চোটে পড়ার পর ব্রাজিলের হয়ে আর খেলেননি নেইমার। সেই চোটই তার বিশ্বকাপ-স্বপ্নকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কার্লো আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন সান্তোস ফরোয়ার্ড। ফিফার প্রকাশিত ব্রাজিল স্কোয়াডেও নেইমারের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

দলে ডাক পাওয়ার মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন নেইমার। সেখানে তাকে ফিজিওথেরাপিস্ট রাফায়েল মার্তিনি ও ফিটনেস কোচ রিকার্ডো রোসাকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। চোট কাটিয়ে ফেরার পথে দুজনই তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সান্তোস সতীর্থ ও ক্লাব স্টাফদের সামনে আবেগঘন বক্তব্যে নেইমার বলেন, 'আমি যে আবেগ অনুভব করেছি, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন।' তিনি আরও জানান, এই ডাক শুধু তার একার নয়, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় পাশে থাকা সবার অর্জন।

নেইমারের কথায়, ‘আমি স্বীকার করছি, কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছি। কারণ এখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না। যারা পুরো সময় আমার পাশে ছিল, তারা জানে এটা কতটা কঠিন ছিল। কিন্তু তালিকায় নিজের নাম শোনার পর মনে হয়েছে, সব ত্যাগ আর সব পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’

ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল ৭৯টি। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। সাম্প্রতিক ইনজুরি-জর্জর সময়ের পরও আনচেলত্তি তাকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আনচেলত্তির মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নেইমারের ধারাবাহিক খেলা ও শারীরিক অবস্থার উন্নতিই তাকে দলে ফেরানোর পক্ষে গেছে।

সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘সব সময় আমাকে বিশ্বাস করার জন্য ধন্যবাদ। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ব্রাজিল ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের পথে যাচ্ছে, আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

বিশ্বকাপের আগে ৩১ মে মারাকানায় পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ৬ জুন ক্লিভল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ ১৩ জুন, নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড