জার্সি-মোজা পরে বিশ্বকাপ মাতাচ্ছে মার্লিন নামের হাঁস

বিশ্বকাপে কখন যে কে তারকা হয়ে ওঠে, বলা কঠিন। কখনো গোলদাতা, কখনো কোচ, কখনো সমর্থক। এবার মেক্সিকোতে আলো কাড়ছে এক হাঁস। নাম তার মার্লিন। মেক্সিকোর জাতীয় দলের ছোট্ট জার্সি আর হাঁসের মাপে বানানো মোজা পরে সে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন বিশ্বকাপ তারকা।
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে। সেই জয়ের পর মেক্সিকো সিটির রিফর্মা অ্যাভিনিউতে সমর্থকদের উদ্যাপনের মাঝেই দেখা যায় মার্লিনকে। মানুষের ভিড়, পতাকা, স্লোগান আর মোবাইল ক্যামেরার মাঝে নিজের ভঙ্গিতে হেঁটে চলছিল সে। মুহূর্তটি অনেকেই ফোনে ধারণ করেন। এরপরই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এর পর থেকে মার্লিন আর সাধারণ হাঁস নেই। মেক্সিকান সমর্থকদের অনেকেই তাকে বিশ্বকাপে মেক্সিকোর অনানুষ্ঠানিক মাসকট বলতে শুরু করেছেন। কেউ তার সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, কেউ আবার বলছেন, মার্লিনকে স্টেডিয়ামেও দেখতে চান তারা।
মার্লিনের মালিক কারলা গোমেজ মেক্সিকো সিটির রাস্তায় পানীয় বিক্রি করেন। তার ছেলে ক্রিস্তিয়ান ও হাঁস মার্লিনকে নিয়েই কাটে তাদের দিন। কারলা জানিয়েছেন, সেদিন তাদের কাছে ব্যাপারটি ছিল একেবারেই সাধারণ দিনের মতো। তারা ভাবেননি, ভিড়ের মধ্যে মার্লিন এতটা নজর কাড়বে।
কারলার ভাষায়, তারা কখনো ভাবেননি মার্লিন এমন আলোড়ন তুলবে। এখন অবশ্য এই অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা তিনি আনন্দ নিয়েই গ্রহণ করছেন। সমর্থকেরা প্রায়ই তাদের থামিয়ে মার্লিনের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। গরমে মার্লিনকে কখনো কখনো পাবলিক ফোয়ারায় ঠান্ডা হতেও দেখা যাচ্ছে।
কারলা নিজেকে এখন মার্লিনের ‘মা’ বলেই পরিচয় দেন। তার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয়, মানুষ তার হাঁসটিকে ভালোবেসে ফেলেছে। বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক মাসকট না হয়েও মার্লিন তাই মেক্সিকোর ফুটবল উৎসবের আলাদা এক মুখ হয়ে উঠেছে।
মার্লিনের গল্পে অনেকের মনে পড়ছে ২০১০ বিশ্বকাপের পল অক্টোপাসের কথা। সেই অক্টোপাস ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়েছিল। মার্লিনও এবার নিজের ঠোঁট দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর চেষ্টা করেছে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকার মধ্যে তাকে বেছে নিতে দেওয়া হলে সে মেক্সিকোকেই বেছে নেয়।
মেক্সিকোর সামনে এখন গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ। মাঠে ফল কী হবে, তা বলবে ফুটবল। তবে মাঠের বাইরে বিশ্বকাপের আনন্দে নতুন রং যোগ করেছে মার্লিন। এক পোষা হাঁস, যে হঠাৎ করেই হয়ে উঠেছে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ-জ্বরের সবচেয়ে মিষ্টি প্রতীক।
