আলজেরিয়া ম্যাচের আগেই সবাইকে ফিট পাওয়ার আশা আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোট নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। ক্যানসাসে দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়া ৯ ফুটবলারই এসেছেন কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যা নিয়ে। তবে লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফ আশাবাদী, ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই সবাই খেলার ছাড়পত্র পাবেন।
গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এরই মধ্যে ক্যানসাসে প্রথম দুটি অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে।
চোটের তালিকায় থাকা ফুটবলারদের মধ্যে শুরুতেই স্বস্তি দিয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ, থিয়াগো আলমাদা ও নিকোলাস পাজ। তিনজনই প্রথম দিনের অনুশীলনে স্বাভাবিকভাবে অংশ নিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে প্রথম লেগে গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন আলভারেজ। দ্বিতীয় লেগে ইনজেকশন নিয়ে খেললেও এরপর আর মৌসুমে মাঠে নামেননি তিনি।
নিকো পাজ ভুগছিলেন টানা ম্যাচ খেলার ধকল থেকে তৈরি হওয়া পেশির সমস্যায়। কোমোর এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হেলাস ভেরোনার বিপক্ষে বাঁ হাঁটুতে আঘাতও পেয়েছিলেন। তবে তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আলমাদাও এখন স্কালোনির পরিকল্পনায় ফেরার মতো অবস্থায় আছেন।
মঙ্গলবারের অনুশীলনে আর্জেন্টিনার জন্য আরেকটি বড় স্বস্তি হয়ে আসেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। টটেনহামের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির সঙ্গে সংঘর্ষের পর কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে জানা যায়, তাঁর ডান হাঁটুর ল্যাটারাল কোল্যাটেরাল লিগামেন্টে চোট লেগেছে। মৌসুমের বাকি অংশে আর খেলতে পারেননি রোমেরো। তবে বিশ্বকাপের আগে সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি।
রোমেরো আগামী মঙ্গলবার আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে কিছু সময় খেলার সুযোগ পেতে পারেন। ম্যাচটি হবে অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে।
লিওনেল মেসিকে নিয়েও সতর্ক অবস্থানে আছে আর্জেন্টিনা। ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ হ্যামস্ট্রিং ধরে মাঠ ছাড়ার পর তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে চোটটি গুরুতর নয়। বিশ্বকাপে তাঁর খেলা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এরপরও হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না কোচিং স্টাফ। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে কিছু সময় খেলতে পারেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
নাহুয়েল মোলিনাও চোট কাটিয়ে ফেরার পথে। সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচে বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড ওয়ান টিয়ার হয়েছিল তাঁর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফেরার কথা এই রাইটব্যাকের। প্রথম ট্যাকটিক্যাল সেশনে তাঁর জায়গায় খেলেছেন নিকোলাস কাপালদো।
লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চোট নিয়েও কিছু গুঞ্জন ছিল। কোপা লিবার্তাদোরেসে উনিভেরসিদাদ কাতোলিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপে তাঁর ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লেগেছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। তবে আর্জেন্টিনা শিবির থেকে সেটি অস্বীকার করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি গুরুতর টিয়ারে নয়, পেশির তীব্র অস্বস্তিতে ভুগছেন। তাঁকেও হন্ডুরাস ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও গনসালো মন্তিয়েলের দিকে। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ ফাইনালের ওয়ার্মআপে ডান হাতের অনামিকায় ফ্র্যাকচার হয় দিবুর। সেই চোট নিয়েই ম্যাচ খেলেন তিনি, তবে এরপর আর অনুশীলন করেননি। বর্তমানে তাঁর আঙুল স্প্লিন্টে রাখা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা নেই, তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি বেঞ্চে থাকতে পারেন।
মন্তিয়েলের অবস্থাই তুলনামূলক বেশি জটিল। ১৬ মে রোসারিও সেন্ট্রালের বিপক্ষে অ্যাপার্তুরা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে বাঁ উরুতে গ্রেড টু টিয়ার হয় তাঁর। সেই চোটে ফাইনাল খেলতে পারেননি তিনি। বিশ্বকাপের আগে ফিট হওয়ার মতো সময় থাকলেও ম্যাচের চাপে তিনি কেমন সাড়া দেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আর্জেন্টিনা কোচিং স্টাফ অবশ্য এখনো আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, বড় কোনো জটিলতা না হলে স্কোয়াড বদলাতে হবে না। তবে মন্তিয়েল পুরোপুরি ফিট না হলে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলাতেও পারে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপের আগে যেমন শতভাগ ফিট না থাকায় নিকোলাস গনসালেজ ও হোয়াকিন কোরেয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি নিখুঁত নয়। কিন্তু চোটের তালিকা দীর্ঘ হলেও শঙ্কার চেয়ে আশাই বেশি দেখছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে স্কালোনির সবচেয়ে বড় চাওয়া এখন একটাই ২৬ জনের সবাইকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া।
