‘প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপ জেতা যায় না’, ড্রয়ের পর আনচেলত্তি

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছ থেকে যে শুরু প্রত্যাশা করা হয়েছিল, নিউ জার্সিতে তা দেখা যায়নি। ম্যাচ শেষে সেটি আড়াল করেননি কোচ কার্লো আনচেলত্তিও। তাঁর স্বীকারোক্তি, উদ্বেগের কারণেই শুরুটা ভালো হয়নি ব্রাজিলের।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। ইসমাইল সাইবারির গোলে আগে পিছিয়ে পড়ে আনচেলত্তির দল। পরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায়।
ম্যাচের পর আনচেলত্তি বলেন, ব্রাজিল শুরুটা ভালো করতে পারেনি। তাঁর মতে, দল কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল, অনেক বল হারিয়েছে এবং ডুয়েলেও পিছিয়ে পড়েছে।
ব্রাজিল কোচ বলেন, প্রথমার্ধ ভালো হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে দল উন্নতি করেছে, তবে মরক্কোর মতো সংগঠিত দলের বিপক্ষে ম্যাচ সহজ ছিল না। তাঁর ব্যাখ্যা, প্রথমার্ধে ব্রাজিলের চাপ প্রয়োগ ঠিকমতো কাজ করেনি। মরক্কো সেই চাপ ভেঙে বেরিয়ে এসে বিপজ্জনক ট্রানজিশন তৈরি করেছে।
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমরা শুরুটা ভালো করিনি। দল কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল। অনেক বল হারিয়েছি, অনেক ডুয়েলও হেরেছি। প্রথমার্ধ ভালো ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে উন্নতি হয়েছে। মরক্কো ভালো দল, তাই ম্যাচটা কঠিন ছিল।’
ড্র নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন, তবে ফলটিকে বিপর্যয় হিসেবেও দেখছেন না। আনচেলত্তির মতে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অনেক কিছুই হতে পারে। দল প্রথম ম্যাচেই নিখুঁত হবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি ছিল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আনচেলত্তি বলেন, “প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপ জেতা যায় না।”
ব্রাজিল কোচ অবশ্য এটাও বলেছেন, ফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, ব্রাজিলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে, আক্রমণেও আরও আগ্রাসী হতে হবে। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে যে কিছু ভালো দিক দেখা গিয়েছিল, মরক্কোর বিপক্ষে প্রথমার্ধে সেগুলো কাজ করেনি।
আনচেলত্তি বলেন, “আমরা কী উন্নতি করতে চাই, সেটা আমার কাছে পরিষ্কার। দল শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়েছে। কিন্তু প্রথমার্ধে আমরা যা করতে চেয়েছিলাম, তা হয়নি। আমাদের আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে, সামনে আরও আগ্রাসী হতে হবে।”
প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হয়েই বিরতিতে দুটি পরিবর্তন করেন আনচেলত্তি। ইবানিয়েজ ও কাসেমিরোকে তুলে নামান দানিলো ও ফাবিনিয়োকে। পরে ৫৯ মিনিটে আরও পরিবর্তন আনেন তিনি। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনচেলত্তি বলেন, বদল আনতে তিনি দেরি করেননি।
ব্রাজিল কোচ বলেন, “আমি ৪৫ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেছি, ৫৯ মিনিটে আরেকটি। তাই মনে করি না, বদল আনতে সময় নিয়েছি।”
একাদশ বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি আনচেলত্তি। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের ধরন অনুযায়ী দল বদলাতে পারে। তবে এই ড্র যেন আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা না দেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আনচেলত্তি বলেন, “আত্মবিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই। প্রথম ম্যাচ পরিকল্পনামতো যায়নি, কিন্তু এগিয়ে যেতে হবে। এখন লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব পেরোনো এবং সময়ের সঙ্গে উন্নতি করা।”
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। তাঁর একক নৈপুণ্যেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
আনচেলত্তি বলেন, “ভিনি ভালো খেলেছে, সে খুব বিপজ্জনক ছিল। তার যে মান আছে, তাতে আমার বিশ্বাস আছে। সে দারুণ বিশ্বকাপ কাটাবে।”
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন আনচেলত্তি। বিশাল সমর্থন পেয়েও প্রত্যাশামতো খেলতে না পারায় আফসোস আছে তাঁর।
ড্রয়ের পর ব্রাজিল ও মরক্কো দুই দলেরই পয়েন্ট ১। গ্রুপ ‘সি’তে ব্রাজিলের পরের ম্যাচ হাইতির বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে আগামী শুক্রবার, ফিলাডেলফিয়ায়। মরক্কো একই দিনে খেলবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
প্রথম ম্যাচে জয় না পাওয়া ব্রাজিলের জন্য সতর্কবার্তা। তবে আনচেলত্তির বার্তা পরিষ্কার, উদ্বেগ কাটিয়ে দলকে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হবে। কারণ বিশ্বকাপ প্রথম ম্যাচে জেতা যায় না, তবে সেই ম্যাচ থেকেই ভুলগুলো ঠিক করার কাজ শুরু হয়ে যায়।
