logo
Advertisement

এবার ব্রাজিলের গোলের রেকর্ডও ছাড়াল জার্মানি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
এবার ব্রাজিলের গোলের রেকর্ডও ছাড়াল জার্মানি
জার্মান ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

স্কোরলাইনটা আবার ৭-১। আর সেই ৭-১ দিয়েই বিশ্বকাপ ইতিহাসের আরেকটি জায়গায় ব্রাজিলকে পেছনে ফেলল জার্মানি। কুরাসাওকে বিধ্বস্ত করার রাতে শুধু গ্রুপ ‘ই’-তে দাপুটে শুরুই করেনি ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের দল, বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোল করা দেশের তালিকাতেও উঠে গেছে সবার ওপরে।

Advertisement

হিউস্টনে বিশ্বকাপ অভিষিক্ত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়েছে জার্মানি। জার্মানির হয়ে জোড়া গোল করেন কাই হ্যাভার্টজ। বাকি গোলগুলো করেন ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, ন্যাথানিয়েল ব্রাউন ও দেনিজ উনডাভ। কুরাসাওর হয়ে একমাত্র গোলটি করেন লিভানো কোমেনেন্সিয়া।

হিসাব অনুযায়ী, এই সাত গোলের পর বিশ্বকাপে জার্মানির মোট গোল দাঁড়িয়েছে ২৩৯। ব্রাজিলের গোল ২৩৮। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা দেশের আসনে এখন জার্মানি। এই লড়াই অবশ্য নতুন নয়। ব্রাজিল ও জার্মানি বহু বছর ধরেই বিশ্বকাপের গোলের হিসাবের শীর্ষে ওঠানামা করেছে।

জার্মানির জন্য রেকর্ডের রাতটি আরও প্রতীকী হয়ে উঠেছে স্কোরলাইনের কারণে। ৭-১ মানেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরে আসে ২০১৪ সালের বেলো হরিজন্তে। সেই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানি। মিনেইরাওর সেই রাত ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে গভীর ক্ষত হয়ে আছে।

২০২৬ সালের এই ৭-১ অবশ্য ২০১৪ সালের মতো নয়। কুরাসাও বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি, অভিষেকেই তারা মুখোমুখি হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর ২০১৪ সালে ব্রাজিল ছিল স্বাগতিক, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, শিরোপার বড় দাবিদার। তবু জার্মানি আর ৭-১, এই দুই শব্দ একসঙ্গে এলেই স্মৃতি ফিরবেই।

ম্যাচের শুরুতেই ফেলিক্স এনমেচা গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন। তবে কুরাসাও হাল ছাড়েনি। ২১ মিনিটে কোমেনেন্সিয়ার গোলে তারা সমতা ফেরায়। সেটি ছিল কুরাসাওর বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল। ছোট ক্যারিবিয়ান দেশটির জন্য মুহূর্তটি ছিল ঐতিহাসিক। কিন্তু সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।

নিকো শ্লটারবেক হেডে জার্মানিকে আবার এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেন হ্যাভার্টজ। বিরতিতে স্কোর ৩-১। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মুসিয়ালা গোল করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি জার্মানির হাতে চলে যায়।

এরপর ব্রাউন, উনডাভ এবং শেষ দিকে হ্যাভার্টজের দ্বিতীয় গোল। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-১। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের তালিকায় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে যায় জার্মানি।

এই রেকর্ড জার্মানির জন্য শুধু সংখ্যার নয়, পুনর্জাগরণের বার্তাও। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর জার্মান ফুটবল প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। কুরাসাওর বিপক্ষে বড় জয় সেই চাপ এক ম্যাচে মুছে দেবে না, তবে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্য এমন শুরুই চাইছিল তারা।

নাগেলসম্যানের দলের আক্রমণে বৈচিত্র্য ছিল। ফ্লোরিয়ান ভির্ৎস ও মুসিয়ালা সৃজনশীলতা দিয়েছেন, জশুয়া কিমিখ খেলা গড়েছেন, হ্যাভার্টজ গোল করেছেন, উনডাভ বদলি নেমে সরাসরি প্রভাব ফেলেছেন। প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও জার্মানির নিখুঁত ফিনিশিং চোখে পড়ার মতো।

তবে রেকর্ডটি বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে। ব্রাজিলের সামনে এখনো গ্রুপ পর্বে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ আছে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল ব্রাজিলকে রেকর্ডের লড়াইয়ে ধরে রেখেছে। হাইতির বিপক্ষে বড় জয় পেলে ব্রাজিল আবার জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই লড়াই তাই শুধু ট্রফির নয়, ইতিহাসেরও। ব্রাজিল এখনো বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল, তাদের শিরোপা পাঁচটি। জার্মানির শিরোপা চারটি। কিন্তু গোলের হিসাবে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বকাপের আলাদা আকর্ষণ। একদিকে ব্রাজিলের শিল্প, অন্যদিকে জার্মানির কার্যকারিতা, দুই ধারার ফুটবলই বিশ্বকাপকে সমৃদ্ধ করেছে।