তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু সুইডেনের

সুইডেনের জন্য বিশ্বকাপ শুরু হলো প্রায় নিখুঁত এক রাতে। মন্টেরেতে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে সূচনা করেছে গ্রাহাম পটারের দল। ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোলের সঙ্গে গোল পেয়েছেন আলেক্সান্ডার ইসাক, ভিক্টর জিওকেরেস ও মাটিয়াস সভানবেরি। তিউনিসিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ওমর রেকিক।
নেদারল্যান্ডস ও জাপানের ২-২ ড্রয়ের পর এই ম্যাচে বড় জয় সুইডেনকে গ্রুপে শক্ত অবস্থানে এনে দিয়েছে। কাগজে-কলমে গ্রুপ ‘এফ’ কঠিন, কিন্তু প্রথম ম্যাচেই সুইডেন জানিয়ে দিল, তারা শুধু অংশগ্রহণ করতে আসেনি। ইসাক-জিওকেরেস জুটির শক্তি, আয়ারির গতিশীলতা এবং মাঝমাঠের কার্যকারিতায় তিউনিসিয়াকে প্রায় পুরো ম্যাচেই চাপে রেখেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডেন ছিল আগ্রাসী। ৪ মিনিটেই প্রথম সতর্কবার্তা দেন জিওকেরেস। তিউনিসিয়ার বল হারানোর পর দ্রুত আক্রমণে উঠে জায়গা বানিয়ে শট নেন তিনি। যদিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল সুইডেন আক্রমণে সময় নষ্ট করতে চায় না।
৬ মিনিটেই আসে প্রথম গোল। লম্বা বল সামলাতে গিয়ে তিউনিসিয়া রক্ষণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গোলরক্ষক শামাখ এগিয়ে এসে ক্লিয়ার করতে চাইলেও বল পড়ে যায় আয়ারির সামনে। তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত এই মিডফিল্ডার শক্তিশালী শটে সুইডেনকে এগিয়ে দেন। গোলের পর আয়ারির উদ্যাপন ছিল সংযত—নিজের শিকড়ের প্রতি সম্মান রেখেই যেন আনন্দটা মেপে প্রকাশ করলেন তিনি।
শুরুতেই গোল পেয়ে সুইডেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তিউনিসিয়া কিছুটা সময় নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। হানিবল মেজব্রি সেট পিসে বিপদ তৈরি করতে চান, স্লিমানে একবার পাল্টা আক্রমণে এগিয়েও অফসাইডে ধরা পড়েন। কিন্তু সুইডেনের রক্ষণ তখন খুব বেশি অস্বস্তিতে পড়েনি।
২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসাক। জিওকেরেসের থ্রু বল ধরে গতি নিয়ে এগিয়ে যান সুইডিশ ফরোয়ার্ড। এরপর ডান পায়ে নেওয়া শটে গোল করেন তিনি। তিউনিসিয়া গোলরক্ষক শামাখ আরও ভালো করতে পারতেন, কিন্তু ইসাকের ফিনিশিংও ছিল যথেষ্ট ঠান্ডা মাথার। এই গোলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ইসাক ও জিওকেরেসের বোঝাপড়া তিউনিসিয়ার জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠছে।
২-০ পিছিয়ে তিউনিসিয়া কিছুটা নড়ে বসে। ম্যাচের ৪২ মিনিটে তারা ব্যবধান কমায়। হানিবল মেজব্রির ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন রেকিক। সুইডেনের রক্ষণ সেই মুহূর্তে যথেষ্ট সতর্ক ছিল না। রেকিকের গোল তিউনিসিয়াকে বিরতির আগে নতুন আশা দেয়। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে।
বিরতির পর শুরুতে তিউনিসিয়া কিছুটা ভালো ফুটবল খেলে। রেকিকের গোল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। হানিবল দূরপাল্লার ফ্রি-কিকে চেষ্টা করেন, তিউনিসিয়া সুইডেনের অর্ধে বল জিতেও হ্যান্ডবলের দাবি তোলে। কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল সাবরি লামুশির দল ম্যাচে ফিরতে পারে।
কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যক্তিগত ভুলের মূল্য অনেক বড়। ৫৮ মিনিটে সেই ভুলেই ম্যাচ আবার সুইডেনের দিকে ঘুরে যায়। স্কিরির ভুল পাস কেটে নেন ইসাক। তিনি একা না গিয়ে নিখুঁত পাস দেন জিওকেরেসকে। গোলরক্ষকের সঙ্গে একা অবস্থায় ভুল করেননি জিওকেরেস। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে স্কোর করেন ৩-১।
এই গোলটাই কার্যত তিউনিসিয়ার মনোবল ভেঙে দেয়। এরপর সুইডেন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পটার বদলি এনে গতি ধরে রাখেন। লুকাস বার্গভাল, এলিয়ট স্ট্রাউড, পরে সভানবেরি—বেঞ্চ থেকেও সুইডেন প্রভাব পায়। তিউনিসিয়া কয়েকটি বদলি করলেও ম্যাচের গতি আর ফেরাতে পারেনি।
শেষ দিকে সুইডেন যেন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে থাকে। ৮৩ মিনিটে মাঠে নামেন সভানবেরি। নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই গোলের দেখা পান তিনি। ইসাকের ছোঁয়ায় বল পেয়ে ফিনিশিং করেন সুইডিশ মিডফিল্ডার। প্রথমে অফসাইড নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত গোল বহাল থাকে। স্কোর হয় ৪-১।
এরপরও সুইডেন থামেনি। যোগ করা সময়ে আবার গোল করেন আয়ারি। ম্যাচের শুরুতে যিনি সুইডেনকে এগিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিই শেষ গোল করে জয়কে আরও বড় করেন। আয়ারির দ্বিতীয় গোল সুইডেনের দাপুটে রাতকে পূর্ণতা দেয়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১।
