অবশেষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা পেলেন ক্রিকেটাররা

অবশেষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পাওনা টাকা হাতে পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রাপ্য ১ লাখ ৬ হাজার ডলার সম্প্রতি খেলোয়াড়দের মধ্যে বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটি প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে ডেইলি সানকে জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে পাওয়া এই ১ লাখ ৬ হাজার ডলার সাবেক বোর্ড কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছিল। তবে ক্রিকেটারদের বিষয়টি জানানো হয়নি। সেই জায়গাটিকেই ভুল হিসেবে দেখছে বর্তমান বোর্ড।
ওই বিসিবি কর্মকর্তা বলেন, তারা দেখেছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে পাওয়া ১ লাখ ৬ হাজার ডলার সাবেক বোর্ড কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে রেখে দিয়েছিল। তার মতে, টাকাটি রাখার সিদ্ধান্তের চেয়েও বড় সমস্যা ছিল ক্রিকেটারদের বিষয়টি না জানানো। কারণ এই অর্থের ওপর সবচেয়ে বড় অধিকার ছিল খেলোয়াড়দেরই।
পরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে বোর্ড জানতে চায়, এই অর্থ নিয়ে কী করা উচিত। ক্রিকেটাররা জানান, টাকা দলের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হোক। এরপরই প্রাপ্য অর্থ ক্রিকেটারদের হাতে তুলে দেয় বিসিবি।
বাংলাদেশ দলের একটি সংস্করণের অধিনায়কও ডেইলি সানকে টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ক্রিকেটাররা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির টাকা পেয়েছেন এবং তাদের মনে হয়েছে, এই অর্থ অন্য কারও চেয়ে তাদেরই বেশি প্রাপ্য। তবে বিষয়টি আগে জানানো হয়নি বলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। তবে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এবং গ্রুপে ষষ্ঠ হয়ে শেষ করার কারণে বাংলাদেশ মোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার পায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এর মধ্যে অংশগ্রহণ ফি হিসেবে ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর টুর্নামেন্টে পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানে থাকা দলগুলোর জন্য নির্ধারিত পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশ পায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
তবে পুরো অর্থ সরাসরি ক্রিকেটারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। ডেইলি সানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ১ লাখ ৬ হাজার ডলারই ছিল খেলোয়াড়দের পাওনা অংশ, যা এতদিন বোর্ডের কাছে ছিল। সাবেক বোর্ডের সময় বিষয়টি ক্রিকেটারদের জানানো হয়নি বলে এখন নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পারফরম্যান্স মাঠে হতাশাজনক ছিল। কোনো ম্যাচ না জিতেই ফিরেছিল দল। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। কিন্তু আইসিসি টুর্নামেন্টের অর্থ কাঠামোর কারণে অংশগ্রহণ ও অবস্থানভিত্তিক পুরস্কার পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই অর্থের একটি অংশ ক্রিকেটারদের পাওনা হিসেবে এতদিন আটকে ছিল।
ক্রিকেটারদের দাবি ছিল, টুর্নামেন্টে মাঠে যারা খেলেছেন এবং দলের সঙ্গে ছিলেন, এই অর্থের প্রধান অধিকার তাদের। বিসিবিও শেষ পর্যন্ত সেই দাবির সঙ্গে একমত হয়েছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পাওনা অর্থ পেলেন ক্রিকেটাররা।
