বিশ্বকাপ ম্যাচে যাওয়ার পথে গুলির মুখে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ দেখতে যাওয়ার পথে কানসাস সিটিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক উবারচালক। গাড়িটিতে ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কয়েকজন সমর্থক, যারা অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বলা হয়েছে, গুলির ঘটনাগুলোর সঙ্গে বিশ্বকাপ ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের সরাসরি কোনো সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, ১৬ জুন সন্ধ্যায়। কানসাস সিটি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে প্রায় ৫ মাইলজুড়ে কয়েকটি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটি ঘটনা ঘটে ইন্টারস্টেট ৭০ ও ৬৭০ সড়কে, যা কানসাস সিটির ডাউনটাউন এলাকা দিয়ে গেছে। সব ঘটনাই অ্যারোহেড স্টেডিয়াম থেকে অন্তত ৪ মাইল দূরে ঘটে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনকে গাড়িতে থাকা দুই সমর্থক জানান, আরেকটি গাড়ি তাদের উবারের পাশে এসে গুলি ছোড়ে। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন, গাড়ির টায়ার ফেটেছে। পরে বুঝতে পারেন, চালকের পায়ে গুলি লেগেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আহত চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
গুলির পর ওই সমর্থকদের থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে হয়। পরে পুলিশ সদস্যরাই তাদের স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেন। সেদিন কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন কিশোর রয়েছে। সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্কের অবস্থা গুরুতর ছিল। একই সময়ে ট্রুম্যান রোড এলাকায় একটি গাড়ি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। চালককে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে গুলির চিহ্ন পান। পরে তিনি মারা যান।
কানসাস সিটি পুলিশ মনে করছে, প্রাণঘাতী নয় এমন গুলির ঘটনাগুলো একই সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। ২২ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজনকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালায় এবং পরে ইন্ডিপেনডেন্স এলাকার একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে। তবে সেখানে প্রবেশের পর সন্দেহভাজনকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপের শহর হিসেবে কানসাস সিটির নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ ছিল শহরটির বড় ম্যাচগুলোর একটি। তবে পুলিশ এখনো এ ঘটনাকে বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে দেখছে না।
