logo

স্কোয়াডে নেই, তবু পর্তুগালের বিশ্বকাপে থাকবেন জোতা

স্কোয়াডে নেই, তবু পর্তুগালের বিশ্বকাপে থাকবেন জোতা
দিয়োগো জোতা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যাবে না লিভারপুলের প্রয়াত ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোতাকে। কিন্তু তাঁর স্মৃতি থাকবে দলের সঙ্গে। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রয়াত সতীর্থকে স্মরণ করতে বিশেষ রিস্টব্যান্ড পরবে পর্তুগাল দল।

পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ম্যাচে খেলোয়াড়রা যে রিস্টব্যান্ড পরবেন, তাতে বর্তমান স্কোয়াডের ফুটবলারদের নামের সঙ্গে থাকবে জোতার নামও। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো দলের হাতে এই রিস্টব্যান্ড তুলে দিয়েছেন।

জোতা গত বছর স্পেনে গাড়ি দুর্ঘটনায় ভাইয়ের সঙ্গে মারা যান। পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতি এখনো গভীরভাবে অনুভব করেন তাঁর জাতীয় দলের সতীর্থরা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাঁকে স্মরণ করার এই উদ্যোগ পর্তুগাল দলের জন্য তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আবেগেরও বিষয়।

রিস্টব্যান্ডটি মাঠে পরার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিতিনিয়া। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের হাতে এটি তুলে দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা চাইলে ম্যাচে, চাইলে দিনের অন্য সময়েও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে পর্তুগাল দল সেটি ভালোবাসা নিয়েই গ্রহণ করেছে এবং মাঠেও পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে গ্রুপ ‘কে’-তে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে। মাঠে নামার আগে জোতার স্মৃতি দলটির ভেতরে এক ধরনের আবেগী ঐক্যের জায়গা তৈরি করেছে।

তবে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতাও ভুলছেন না ভিতিনিয়া। পিএসজির হয়ে বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতা অর্জন করা এই মিডফিল্ডার পর্তুগালকে সরাসরি ফেভারিট বলতে চান না। তাঁর মতে, দলে মান আছে, অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্যও আছে; কিন্তু পথটা হতে হবে বিনয়ী, সংগঠিত ও সঠিক ফুটবল খেলার মাধ্যমে।

ভিতিনিয়া বলেন, পর্তুগালের প্রতিভা আছে, তবে টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিকগুলো ঠিকভাবে একসঙ্গে কাজ করলেই সাফল্য আসবে। বিশ্বকাপে শুধু নাম বা প্রতিভা যথেষ্ট নয়, প্রতিটি ম্যাচে সঠিক মনোভাব নিয়েই নামতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—তিন দেশে। ভিন্ন ভিন্ন শহর, আবহাওয়া ও ভ্রমণসূচি দলগুলোর জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ভিতিনিয়ার মতে, তাপমাত্রা ও আবহাওয়া খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সেটি সবার জন্যই সমান। তাই কোনো অজুহাত খোঁজার সুযোগ নেই।

পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনো শিরোপা নেই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান এক স্কোয়াড, আর জোতার স্মৃতিতে আবেগঘন এক মিশন—সব মিলিয়ে এবারের আসর পর্তুগালের জন্য বিশেষ।

জোতা হয়তো মাঠে নেই, কিন্তু পর্তুগাল তাঁকে ভুলে যায়নি। বিশ্বকাপের প্রতিটি পদক্ষেপে, বিশেষ সেই রিস্টব্যান্ডে, সতীর্থদের স্মৃতিতে তিনি থাকবেন দলের সঙ্গেই।