logo

এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সার জয়রথ থামাল রিয়াল মাদ্রিদ

এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সার জয়রথ থামাল রিয়াল মাদ্রিদ
এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সার জয়রথ থামিয়েছে রিয়াল। ছবি: গেটি ইমেজ

লা লিগায় টানা নয় ম্যাচ জিতে এল ক্লাসিকোতে নেমেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে থামল সেই জয়রথ। নিজেদের মাঠ স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।

প্রথমার্ধে ফরাসি তারকার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রাফিনিয়ার লক্ষ্যভেদে সমতায় ফিরেছিল বার্সেলোনা। তবে শেষ মুহূর্তে আবারও গোল করে স্বাগতিকদের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেন এমবাপ্পে। তার নৈপুণ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে হোসে মরিনহোর রিয়াল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বার্সেলোনার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার দশম রাউন্ডের ম্যাচে শুরু থেকেই জমে ওঠে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি বার্সেলোনা। উল্টো পাল্টা আক্রমণে একাধিকবার স্বাগতিকদের রক্ষণকে বিপদে ফেলে রিয়াল।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য দুই দলই কিছুটা সতর্ক ছিল। প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি তৈরি করে রিয়াল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে শট নেন আরদা গুলের। তবে তার প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে দূরপাল্লার শটে রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিনকে পরীক্ষা করেন অ্যান্থনি গর্ডন।

ধীরে ধীরে আক্রমণের ধার বাড়ায় রিয়াল। মাঝমাঠে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি ও বার্নার্দো সিলভার সক্রিয়তায় বার্সেলোনার আক্রমণ আটকে দিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকে মরিনহোর দল। বিশেষ করে ইয়ান দিয়োমান্দের গতির সামনে বারবার সমস্যায় পড়তে হয় স্বাগতিকদের।

৩০তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার তরুণ ডিফেন্ডার জাভি এসপার্ত। তার বদলি হিসেবে নামেন আলেহান্দ্রো বালদে। এর কিছুক্ষণ পর গুলেরের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক অ্যাক্রোবেটিক শট নেন এমবাপ্পে। তবে বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে রাফিনিয়ার একাধিক প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

অবশেষে ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। বাঁ প্রান্ত থেকে বল নিয়ে এগিয়ে দিয়োমান্দের উদ্দেশে পাস বাড়ান মার্ক কুকুরেয়া। সেখান থেকে বক্সে নিচু ক্রস পাঠান দিয়োমান্দে। বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে ভুল করেন বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন। তার জোরালো ক্লিয়ারেন্স এমবাপ্পের গায়ে লেগে অপ্রত্যাশিতভাবে জালে জড়িয়ে যায়। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামালও একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে এক গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে বার্সেলোনা। বলের দখল বাড়ানোর পাশাপাশি রিয়ালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ফ্লিকের শিষ্যরা। সেই চাপের ফল আসে ৬১তম মিনিটে।

ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে বল পান পেদ্রি। বক্সের ভেতরে তার দারুণ এক পাস পেয়ে যান রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের জোরালো শট জুড বেলিংহামের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে যায়। বল ঠেকাতে হাত লাগিয়েছিলেন লুনিন, কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে বার্সেলোনা।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিকেরা। ৬৬তম মিনিটে আবারও গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায় বার্সেলোনা। কর্নার থেকে ছয় গজ বক্সের ভেতরে হেড নেন জেরার্দ মার্তিন। কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বল ঠেকিয়ে দেন লুনিন। অসুস্থ থিবো কোর্তোয়ার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া এই ইউক্রেনীয় গোলরক্ষকের সেভটি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যায় বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামাল একাধিকবার রিয়ালের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেন। ৭৮তম মিনিটে কয়েকজনকে কাটিয়ে তার নেওয়া একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে রিয়ালও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করতে থাকে। তবে শেষ দিকে এসে কিছুটা ক্লান্ত দেখাচ্ছিল মরিনহোর দলকে।

ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আবারও এমবাপ্পের ঝলক। ৮৭তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোলটি পায় রিয়াল। মাঝমাঠে বেলিংহামের দারুণ নৈপুণ্যের পর গুলেরের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে এগিয়ে যান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। বক্সে ঢুকে পাউ কুবারসিকে পেছনে ফেলে এমবাপ্পের উদ্দেশে পাস বাড়ান তিনি। ফাঁকা গোলপোস্টে বল পাঠাতে কোনো ভুল করেননি ফরাসি তারকা।

এই গোলের পর টাচলাইনে হাঁটু গেড়ে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন মরিনহো। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হতবাক হয়ে পড়ে বার্সেলোনা। যোগ করা সময়েও সমতায় ফেরার চেষ্টা করে স্বাগতিকেরা। কিন্তু আর রিয়ালের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।

কোর্তোয়ার অনুপস্থিতিতে রিয়ালের গোলপোস্ট সামলানো লুনিনের পারফরম্যান্সও ছিল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে মার্তিনের হেড ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। রক্ষণে কুকুরেয়া ও চুয়ামেনির দৃঢ়তাও বার্সেলোনার আক্রমণ সামলাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই হারে চলতি লা লিগায় বার্সেলোনার শতভাগ জয়ের রেকর্ড শেষ হলো। প্রথম নয় ম্যাচের সব কটিতে জয়ের পর দশম ম্যাচে এসে হারের স্বাদ পেল কাতালানরা। তবে ১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্লিকের দল। সমান ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

অন্যদিকে এই জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ব্যবধান কমিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দশ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মরিনিওর দল। বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান এখন মাত্র তিন পয়েন্ট।