মেসির নামে নতুন উদ্ভিদ, ফুলেও আর্জেন্টিনার রং
-e4f2a4-720x405.webp)
ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড আর অর্জনে নিজের নাম অমর করে রেখেছেন লিওনেল মেসি। এবার আর্জেন্টাইন মহাতারকার নাম জায়গা পেল উদ্ভিদজগতেও। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় পাওয়া নতুন এক প্রজাতির উদ্ভিদের নাম রাখা হয়েছে মেসির নামে। মজার ব্যাপার হলো, উদ্ভিদটির ফুলের রংও আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সির মতো আকাশি ও সাদা।
নতুন এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘সালভিয়া মেসিই’ (Salvia messii)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২ অক্টোবর উদ্ভিদবিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ফাইটোট্যাক্সা’য় নতুন প্রজাতিটির বিস্তারিত বিবরণসহ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।
পেরুর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালায় পাওয়া যায় এই উদ্ভিদ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে ও শুষ্ক পাহাড়ি ঢালে জন্মায় এটি। প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটি। পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে উঠলেও এর বিস্তৃতি খুবই সীমিত।
উদ্ভিদটির নামকরণের পেছনে রয়েছে মেসির প্রতি গবেষকদের শ্রদ্ধা। বিশেষ করে আকাশি ও সাদা রঙের ফুলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সির মিল এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মেসির নামের শেষে অতিরিক্ত একটি ‘আই’ যোগ করা হয়েছে। ফলে ‘সালভিয়া মেসিই’ নামটির অর্থ দাঁড়ায় ‘মেসির উদ্ভিদ’।
নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত ও নামকরণের গবেষণায় যুক্ত ছিলেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের গবেষক পাউল গনসালেস, আর্জেন্টিনার গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর জীববিজ্ঞানী জঁ কাপচা-রামোস।
উদ্ভিদটি শনাক্তের গল্পটিও বেশ মজার। প্রকৃতিপ্রেমীদের অনলাইনে প্রকাশ করা কিছু ছবি থেকেই প্রথম এর সন্ধান পান গবেষকেরা। আর্জেন্টিনার গবেষক রোলান্দো উরিয়া ছবিগুলো দেখে বুঝতে পারেন, উদ্ভিদটির বৈশিষ্ট্য পরিচিত প্রজাতিগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। এরপর অন্য গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান ও নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন প্রজাতিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন তারা।
তবে মেসির নামে নামকরণ করা উদ্ভিদটি নিয়ে উদ্বেগের কারণও রয়েছে। গবেষণাপত্রে সীমিত বিস্তৃতির কারণে এটিকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বনাঞ্চলে আগুন, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি এর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
উদ্ভিদটি পুদিনা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের অনেক উদ্ভিদের সুগন্ধি ও ঔষধি গুণ রয়েছে। তবে নতুন এই প্রজাতির কোনো ঔষধি গুণ আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুটবল তারকাদের নামে নতুন প্রজাতির নামকরণ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে কোস্টারিকার সাবেক গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের নামেও সামুদ্রিক প্রাণীর একটি প্রজাতির নাম রাখা হয়েছিল। চলতি বছর কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার নামেও এক প্রজাতির সামুদ্রিক শামুকের নামকরণ করেছেন স্প্যানিশ জীববিজ্ঞানী হেসুস ওর্তেয়া।
ফুটবল মাঠে আকাশি-সাদা জার্সিতে অসংখ্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। এবার একই রঙের ফুলের মধ্যেও জড়িয়ে গেল তার নাম। তবে সেই উদ্ভিদকে টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা।
-1c4fe0.webp)
-9d9102.webp)
-ad78bb.webp)
