ভারতের কাছে হারার পর দল পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বাটলারের

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। গোয়ায় ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলের হারের পর কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি বাংলাদেশ নারী দলের কোচ পিটার বাটলার। বরং ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, মানসিকতা ও পেশাদারত্ব নিয়েই সরাসরি কথা বলেছেন তিনি।
মালদ্বীপের বিপক্ষে কষ্টার্জিত ৪-২ গোলের জয়ে সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ভারতের বিপক্ষে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি লাল-সবুজের মেয়েরা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, হারটির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
বাটলারের ভাষ্য, বাংলাদেশ স্রেফ ম্যাচটি হেরেছে। কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্ত কাজে লাগাতে না পারা এবং কয়েকজন খেলোয়াড়ের প্রত্যাশামতো পারফর্ম না করাই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে কয়েকজন ফুটবলারের চেষ্টাকে ইতিবাচকভাবেও দেখেছেন কোচ।
বাংলাদেশ দল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ভাবনার কথাও বলেছেন বাটলার। তার মতে, দলটাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন আছে। কারণ কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলার ক্যারিয়ারের শেষ ধাপে চলে এসেছেন। তাই তরুণদের জায়গা করে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য দল গড়া এখন জরুরি।
তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া নিয়ে বাটলার বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সাহসী হতে হয়। কখনও কখনও ঝুঁকি নিতে হয়, এমনকি বাইরে থেকে সেটি বোকামি মনে হলেও। তার ব্যাখ্যায়, দল গঠনের এই প্রক্রিয়ায় ভুল-ত্রুটি থাকবে, তবে সেটিই ভবিষ্যৎ তৈরি করার অংশ।
তবে সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি এসেছে খেলোয়াড়দের পেশাদার মানসিকতা নিয়ে। বাটলার ভারতীয় ফুটবলারদের উদাহরণ টেনে বলেন, তাদের কাউকে ওয়ার্মআপে যেতে বলা হলে সে দৌড়ে যায়, কারণ মাঠে নামার জন্য সে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে তিনি সেই আগ্রহ দেখেননি। কারও কারও ওয়ার্মআপে যেতে দেরি করা বা হেঁটে যাওয়া তার চোখে ভালোভাবে লাগেনি।
কোচের মতে, জাতীয় দলের ফুটবলারদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নিবেদন প্রত্যাশিত। তিনি জানিয়ে দেন, খেলোয়াড়রা যদি শতভাগ দেয়, তিনিও তাদের শতভাগ সমর্থন দেবেন। কিন্তু মাঠে নামার আগ্রহ, প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্বে ঘাটতি থাকলে সেটি দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবেই।
আফঈদা খন্দকারকে বিশ্রামে রাখার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাটলার। তিনি বলেছেন, তরুণ ফুটবলারদের কখনও কখনও কঠিন পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে রাখা প্রয়োজন হয়, যেন তারা ধীরে ধীরে উন্নতি করতে পারে। তার সিদ্ধান্তের পেছনে খেলোয়াড়কে রক্ষা করার ভাবনাই কাজ করেছে বলে জানান কোচ।
হারের মাঝেও আশা ছাড়ছেন না বাংলাদেশ কোচ। তার বিশ্বাস, ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সবসময় থাকে। ভারতের কাছে বড় হার ভুলে পরের দিন থেকেই আবার অনুশীলনে ফিরতে চান তিনি।
