logo

বিতর্কের আগুনে ঘি রোনালদোর, সতীর্থদের সমালোচনার পোস্টে ‘লাইক’

বিতর্কের আগুনে ঘি রোনালদোর, সতীর্থদের সমালোচনার পোস্টে ‘লাইক’
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: গেটি ইমেজ

পর্তুগাল জাতীয় দল ছেড়ে হঠাৎ ক্যাম্প থেকে চলে যাওয়ার পর থেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন পর্তুগিজ তারকা নিজেই। তার সতীর্থদের আচরণ এবং কোচ জর্জ জেসুসের সমালোচনা করে ফেলিপে মেলোর দেওয়া একটি ভিডিওতে ‘লাইক’ দিয়েছেন রোনালদো।

ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার মেলো ওই ভিডিওতে রোনালদোর সঙ্গে পর্তুগালের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে লিওনেল মেসিকে আর্জেন্টিনায় যেভাবে সম্মান দেওয়া হয়, তার সঙ্গে রোনালদোর পরিস্থিতির তুলনাও টানেন তিনি।

মেলোর বক্তব্য ছিল, ‘পর্তুগিজরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছে আর আর্জেন্টাইনরা লিওনেল মেসির সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছে, দুটির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।’

এরপর পর্তুগাল দলের ফুটবলারদের নিয়েও আরও কড়া মন্তব্য করেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।

মেলো বলেন, ‘রোনালদোর বিপক্ষে খেলা প্রতিপক্ষদের কাছ থেকেও আমি যতটা সম্মান দেখি, নিজের জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছ থেকে ততটা দেখি না। ওখানে কেউই তাঁর ধারেকাছেও নেই। ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে কারও তুলনা হয় না।’

রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তির জাতীয় দল থেকে বিদায় এভাবে হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন মেলো।

তার ভাষায়, ‘ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় তিনি। তাকে এভাবে চলে যেতে দেওয়া যায় না।’

জর্জ জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মেলো। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদো ও জেসুসের মধ্যে একজনের পক্ষ নিতে হলে তিনি রোনালদোর পক্ষেই থাকবেন।

সতীর্থদের সমালোচনা করা সেই পোস্টে রোনালদোর লাইক।
সতীর্থদের সমালোচনা করা সেই পোস্টে রোনালদোর লাইক।

মেলোর সেই ভিডিওতেই ‘লাইক’ দিয়েছেন রোনালদো। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম রোনালদোর অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া সেই প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। তার এই পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে রোনালদো নিজে সরাসরি সতীর্থদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি।

ঘটনার পটভূমি অবশ্য কয়েক দিনের পুরোনো।

নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন রোনালদো। দলে থেকেও কোনো মিনিট না খেলার এমন ঘটনা তার পর্তুগাল ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় পর ঘটেছিল। এরপর কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

৩০ সেপ্টেম্বর পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। তাঁর বিদায়ের আগে জেসুস সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছিলেন, বেঞ্চে থাকায় রোনালদো অসন্তুষ্ট ছিলেন, যদিও দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তার বিস্তারিত তখন প্রকাশ করেননি।

রোনালদো জানিয়েছিলেন, উপযুক্ত সময়ে পুরো সত্য জানাবেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও সতীর্থদের প্রতি শুভকামনার কথাও বলেছিলেন তিনি।

রোনালদোর পাশে দাঁড়ানো মেলোই অবশ্য একমাত্র সাবেক ফুটবলার নন। চিলির আর্তুরো ভিদালও জেসুসের সমালোচনা করে রোনালদোকে সমর্থন জানিয়েছেন।

ভিদালের মতে, রোনালদোর মতো একজন ফুটবলারের জাতীয় দল থেকে এভাবে চলে যাওয়া ‘লজ্জাজনক’। পর্তুগিজ ফুটবলকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য রোনালদোর প্রতি আরও সম্মান দেখানো উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন সাবেক বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস মিডফিল্ডার।

অন্যদিকে রোনালদোকে ছাড়াই মাঠের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পর্তুগাল। তবে জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

এমন পরিস্থিতিতে মেলোর বিস্ফোরক বক্তব্যে রোনালদোর একটি ‘লাইক’ই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।