logo

তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম, হতাশায় শেষ বাংলাদেশের আসিয়ান কাপ

তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম, হতাশায় শেষ বাংলাদেশের আসিয়ান কাপ
ছবি: বাফুফে

শুরুতেই ভেঙে পড়া রক্ষণ, প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম। বিরতির পর কিছুটা সামলে উঠলেও শেষ মুহূর্তে আবার এল গোলের ধাক্কা। ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করল টমাস ডুলির দল।

জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে ইন্দোনেশিয়ার হয়ে একাই পাঁচ গোল করেছেন মিচেল লি বেকার। বাংলাদেশের দুই গোল শাহরিয়ার ইমন ও বদলি নামা ফারহান আলীর। বড় এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে ফাইনালও নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু ১১ মিনিটে। ওলে রমনির পাস থেকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান বেকার। ২০ মিনিটে জটলার মধ্যে আবারও গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এর আগে সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু শমিত সোম বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারার পর উল্টো পাল্টা আক্রমণ থেকেই দ্বিতীয় গোল হজম করে দল।

৩১ মিনিটে রিজকি রিদোর গোলে স্কোর হয় ৩-০। পাঁচ মিনিট পর অবশ্য এবারের আসরে প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে সুকি ইতোফুসার নিচু ক্রসে সামনে ঝাঁপিয়ে হেডে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন।

কিন্তু সেই স্বস্তি টেকেনি এক মিনিটও। ৩৭ মিনিটে আবার রমনির পাস থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বেকার। ৪২ মিনিটে হেডে নিজের চতুর্থ গোলও করেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে হেডে জাস্টিন হাবনার গোল করলে বিরতিতেই ৬-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে গুছিয়ে খেলতে শুরু করে। সুকি ও ইমনের জায়গায় ফারহান আলী ও মিনহাজুল আবেদীনকে নামান ডুলি। প্রথমার্ধে চোট পাওয়া শমিতের বদলে আগেই মাঠে আসেন সোহেল রানা। ৬০ মিনিট পর্যন্ত আর কোনো গোলও হজম করেনি বাংলাদেশ।

৮৪ মিনিটে রমনি বল জালে পাঠালেও অফসাইডে গোলটি বাতিল হয়। ৮৯ মিনিটে বাংলাদেশের সামনে ব্যবধান কমানোর ভালো সুযোগ আসে, কিন্তু বক্সে ঢুকে ফারহানের শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

এরপরই ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে আবার গোলবন্যা। লুক বিকারি ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম গোলটি করেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে দারুণ প্লেসমেন্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোল করেন ফারহান। স্কোর তখন ৭-২।

গোলের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কিও হয়। সেই ঘটনায় যোগ করা সময় বাড়িয়ে সাত মিনিট করা হয়। আর শেষ দুই মিনিটে বাংলাদেশের জালে আরও দুবার বল পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। ৯০+৬ মিনিটে কেভিন ডিকস এবং ৯০+৭ মিনিটে নিজের পঞ্চম গোলটি করেন বেকার। চূড়ান্ত স্কোর ৯-২।

এই জয়ে মালয়েশিয়াকে গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়া। একই সময়ে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল মালয়েশিয়া, তবু শেষ মুহূর্তের দুই গোলে তাদের টপকে যায় স্বাগতিকরা।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য আসরটি শেষ হলো হতাশায়। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০, এরপর সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ এবং শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২; তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ, গোল করেছে মাত্র দুটি। দুটিই এসেছে শেষ ম্যাচে।