অ্যানফিল্ডে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল

অ্যানফিল্ডে দীর্ঘদিনের জয়ের খরা অবশেষে কাটাল আর্সেনাল। লিভারপুলের মাঠে যেখানে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জয় অধরা ছিল, সেখানেই এবার দাপট দেখাল মিকেল আর্তেতার দল।
কাই হাভার্টজের একমাত্র গোলে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠেছে গানাররা। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর লিভারপুলের একের পর এক আক্রমণ সামলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে তারা। এই জয়ে ২০১২ সালের পর প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগে অ্যানফিল্ড থেকে জয় নিয়ে ফিরল আর্সেনাল।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে লিভারপুলের অ্যানফিল্ডে প্রিমিয়ার লিগের নবম রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সফরকারীরা। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে ডেকলান রাইসের দারুণ পাস থেকে গোল করেন হাভার্টজ। এরপর সমতায় ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও আর্সেনালের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি লিভারপুল।
ম্যাচের আগে পয়েন্ট তালিকায় সমান ২১ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম দুই স্থানে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল। শনিবার ব্রাইটনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল গানারদের সামনে। সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে আর্তেতার শিষ্যরা।
অ্যানফিল্ডে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্সেনাল। মাঝমাঠে রাইসের নেতৃত্বে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুত আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করে সফরকারীরা। ১৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। তবে বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
দুই মিনিট পরই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় আর্সেনাল। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল বের করতে গিয়ে ভুল করেন লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বেকার। মার্টিন ওডেগার্ডের চাপে বলের দখল নেয় সফরকারীরা। এরপর দ্রুত আক্রমণে বল যায় ননি মাদুয়েকের কাছে। তার বাড়ানো পাস ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যান রাইস।
সেখান থেকে গোলমুখে নিচু ক্রস বাড়ান ইংলিশ মিডফিল্ডার। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টে পৌঁছে বল জালে পাঠান হাভার্টজ। জার্মান ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্সেনাল।
গোল হজমের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে লিভারপুল। আক্রমণভাগে আলেকজান্ডার ইসাক, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও কোডি গাকপো একের পর এক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। তবে আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে বারবার আটকে যান তারা।
২৭তম মিনিটে কর্নার থেকে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডে বল পেয়ে গোলের চেষ্টা করেন ইসাক। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বিপদ সামাল দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।
এরপর বক্সের ভেতর ইসাকের জার্সি ধরে টান দেওয়ার ঘটনায় পেনাল্টির দাবি জানায় লিভারপুল। তবে ইউরিয়েন টিম্বারের বিরুদ্ধে ওঠা সেই অভিযোগে স্পটকিক দেননি রেফারি। ভিএআরও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি।
৩৬তম মিনিটে আবারও সুযোগ পান ইসাক। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বাড়ানো বল থেকে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধে লিভারপুলের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ৩৯তম মিনিটে। বক্সের কাছাকাছি জায়গায় পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত শট নেন ভির্টজ। রায়াকে পরাস্ত করলেও বল গিয়ে লাগে ক্রসবারে। অল্পের জন্য সমতায় ফেরা হয়নি স্বাগতিকদের।
বিরতির আগে আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে লিভারপুল। বাঁ প্রান্ত থেকে মিলোস কেরকেজের বাড়ানো ক্রসে বক্সের ভেতর ফাঁকায় হেড নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। ফলে এক গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের চাপ ধরে রাখে লিভারপুল। তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের সামনে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। গোলের সুযোগ তৈরির চেয়ে বল দখল ও ক্রসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে আন্দোনি ইরাওলার দল।
ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় ৫৮তম মিনিটে ট্রে নিওনির পরিবর্তে দমিনিক সোবোসলাইকে মাঠে নামান লিভারপুল কোচ। এরপর ৬৭তম মিনিটে গাকপোর জায়গায় নামেন তরুণ রিও এনগুমোহা। তবে পরিবর্তনেও গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের দিকে নিতে শুরু করে আর্সেনাল। ৬৮তম মিনিটে লিভারপুলের রক্ষণভাগের ভুলে ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিস্তোস জোলিস। তবে নিজে শট না নিয়ে সতীর্থকে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বিপদমুক্ত করেন জেরেমি জাকে।
৭৩তম মিনিটে আবারও সুযোগ পান জোলিস। মাদুয়েকের পাস থেকে তার নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন আলিসন।
শেষদিকে ম্যাচে উত্তেজনাও ছড়ায়। ৭৯তম মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টার ও ওডেগার্ডের মধ্যে ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মাদুয়েকে ও টিম্বারও তাতে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে মাদুয়েকের মাথার সংস্পর্শের ঘটনা ভিএআর পর্যালোচনা করলেও কাউকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি। হলুদ কার্ড দেখেন ম্যাক অ্যালিস্টার ও টিম্বার।
শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের গতি বাড়ায় লিভারপুল। যোগ করা সময়েও গোলের চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা। তবে ব্র্যাডলি বারকোলার একটি দুর্বল শট রায়া সহজেই ধরে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।
হাভার্টজের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ লিভারপুলের মাঠে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ জিতেছিল তারা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।
এই জয়ে ৯ ম্যাচে আট জয় নিয়ে আর্সেনালের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২৪ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে গেল আর্তেতার দল। অন্যদিকে ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে লিভারপুল।

-d522d4.webp)

