ম্যানসিটির হারেই ৪০ বছরের লজ্জায় ম্যানইউ

একসময় ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর শক্তি ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অথচ সেই ক্লাবই এখন প্রিমিয়ার লিগের অবনমন অঞ্চলে। মৌসুমের শুরু থেকে একের পর এক ব্যর্থতার পর এবার ৪০ বছরের পুরোনো এক বিব্রতকর ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে রেড ডেভিলরা। আরও অদ্ভুত ব্যাপার হলো, নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির পরাজয়েই অবনমন অঞ্চলে নেমে গেছে ইউনাইটেড। তাতে প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারায় নটিংহাম ফরেস্ট। লিয়াম ডেলাপের জোড়া গোলে পাওয়া এই জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসে অলিভার গ্লাসনারের দল। আর তাদের জায়গায় পয়েন্ট তালিকার ১৮ নম্বরে নেমে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নিজেদের মাঠে না নেমেই অবনমন অঞ্চলে জায়গা হয়েছে ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ক্লাবটির।
এই জয়ে ১০ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৬ নম্বরে উঠে এসেছে ফরেস্ট। সমান পয়েন্ট নিয়ে ১৭তম স্থানে কভেন্ট্রি সিটি। অন্যদিকে এক ম্যাচ কম খেলা ইউনাইটেডের সংগ্রহ মাত্র ৭ পয়েন্ট। তাদের নিচে রয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস ও সান্ডারল্যান্ড।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি জয় পেয়েছে ইউনাইটেড। চারটি ড্র ও চারটি হারে তাদের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। প্রতিপক্ষের জালে ১০ গোল করার বিপরীতে হজম করেছে ১৫টি। সবশেষ সাত লিগ ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি ক্যারিকের দল।
গত ৩০ আগস্ট ইপসউইচ টাউনকে ৫-২ গোলে হারানোর পর থেকেই লিগে জয়হীন তারা। সেদিন ব্রুনো ফার্নান্দেজের হ্যাটট্রিকে বড় জয় পেয়েছিল ইউনাইটেড। কিন্তু এরপর টানা সাত ম্যাচে আর তিন পয়েন্টের দেখা মেলেনি।
প্রিমিয়ার লিগের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমে অন্তত ৯ ম্যাচ খেলার পর ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের অবনমন অঞ্চলে দিন শেষ করার ঘটনা ইউনাইটেডের জন্য ১৯৮৬ সালের নভেম্বরের পর এবারই প্রথম। অর্থাৎ দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ল ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি।
সেবার ২২ দলের ইংলিশ প্রথম বিভাগে ১৫ ম্যাচ শেষে ২১তম স্থানে নেমে গিয়েছিল ইউনাইটেড। সেই মৌসুমের শুরুতে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে চাকরি হারিয়েছিলেন তৎকালীন কোচ রন অ্যাটকিনসন।
তার জায়গায় ১৯৮৬ সালের ৬ নভেম্বর দায়িত্ব নেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। স্কটিশ এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পরও শুরুতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইউনাইটেড। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও অবনমন অঞ্চলে ছিল দলটি।
তবে পরবর্তী সময়ে ফার্গুসনের হাত ধরেই বদলে যায় ক্লাবটির ইতিহাস। তার ২৬ বছরের বেশি সময়ের শাসনামলে ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ ও দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা জেতে ইউনাইটেড। ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘদিনের আধিপত্যও প্রতিষ্ঠা করে তারা।
চার দশক পর আবারও সেই কঠিন সময়ের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়েছে ক্লাবটির বর্তমান পরিস্থিতির। এবার দায়িত্বে থাকা ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও ক্রমেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
সবশেষ লিগ ম্যাচে চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল ইউনাইটেড। এর আগে বোর্নমাউথের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল তারা। তবে গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল ক্যারিককে। কিন্তু ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার সেই সাফল্য ঘরোয়া লিগে দলের দুর্দশা আড়াল করতে পারছে না।
অবনমন অঞ্চলে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের পরই প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন ক্যারিক। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, পয়েন্ট তালিকার অবস্থান নিয়ে ভাবার পরিবর্তে তার মনোযোগ কেবল ম্যাচ জেতার দিকে।
ক্যারিক বলেন, ‘আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হবে। ব্যাপারটা এতটাই সহজ। এখন কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি বদলানো যাবে না।’
এমনকি অবনমন অঞ্চলে চলে যাওয়াকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কলঙ্ক মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নেও নেতিবাচক উত্তর দেন ইউনাইটেড কোচ।
এদিকে রোববার (৮ নভেম্বর) নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাস্টন ভিলার মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে দ্বাদশ স্থানে রয়েছে ভিলা।
ম্যাচটি ক্যারিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিতলে অবনমন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকবে ইউনাইটেডের। কিন্তু পয়েন্ট হারালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক বিরতির পর ২২ নভেম্বর লিভারপুলের মাঠে খেলবে তারা।
১৯৭৪ সালের পর আর কখনো ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ থেকে অবনমিত হয়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে এবার মৌসুমের এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি সময় পেরিয়েই অবনমন অঞ্চলে নেমে গেছে ক্লাবটি।
৪০ বছর আগে এমন কঠিন সময়ে ফার্গুসনের আগমন বদলে দিয়েছিল ইউনাইটেডের ভাগ্য। এবার ক্যারিকের সামনে চ্যালেঞ্জ, সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব দলকে জয়ের ধারায় ফেরানো।


