হামজাদের নতুন কোচ চূড়ান্ত কবে, জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে। ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানকে ঘিরে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি হলেও তার পারিশ্রমিক ও সহকারী স্টাফের খরচ নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। এর মধ্যেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানালেন, নতুন কোচের নাম জানতে আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পল্টনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে ব্যাডমিন্টন লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সেখানে জাতীয় ফুটবল দলের কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাফুফের সঙ্গে সরকারের আলোচনা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
আমিনুল হকের ভাষায়, ‘আমরা ইতোমধ্যে বাফুফে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবং তাদের যে টিম রয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু কোচদের একটি শর্টলিস্ট হয়েছে, আমি আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই আপনারা নতুন কোচের নাম জানতে পারবেন।’
বাফুফে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে। সেই তালিকায় আছেন ক্রিস কোলম্যান, বার্নড স্টর্ক ও টমাস ডুলি। তবে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে কোলম্যানের নাম। ওয়েলসকে ২০১৬ ইউরোর সেমিফাইনালে তোলা এই কোচ বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হলেও আর্থিক দিকটি বাফুফের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে আছে।
জানা গেছে, কোলম্যান তার সহকারী কিট সিমন্সকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। তাদের দুজনের জন্য মাসিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে কোলম্যানের বেতনই প্রায় ২৬ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
ব্যয়বহুল কোচ নিয়োগের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সরাসরি বাজেট সীমাবদ্ধতার কথাই সামনে আনেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রাতারাতি কোনো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যে কোচ আসুক না কেন, তাকে একটি নির্ধারিত সময় দেওয়া উচিত। আমরা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। একটু অপেক্ষা করেন, আপনারা কাঙ্ক্ষিত ফল জানতে পারবেন।’
জাতীয় দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। হামজা চৌধুরীকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, দলেও এসেছে নতুন উদ্দীপনা। এমন সময়ে কোচ নিয়োগে ভুল করতে চায় না বাফুফে। তাই নাম চূড়ান্ত হওয়ার আগে আর্থিক সামর্থ্য, কোচের পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ সব দিকই বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এ সময় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সরকারি বরাদ্দ নিয়েও কথা বলেন আমিনুল হক। বর্তমান বাজেটকে প্রত্যাশার তুলনায় অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
