‘আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃখের দিন’: মেসি
-2d3799-720x405.webp)
দেশের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটা জয় দিয়েই রাঙালেন লিওনেল মেসি। গোল করেছেন, করিয়েছেন আরও দুটি। এরপর মনুমেন্তালের মাঝমাঠে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়েই লিওনেল মেসি জানালেন, দিনটা তার কাছে আসলে আনন্দের নয়।
‘আজ সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃখের দিন।’
বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো সমর্থকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মেসি।
দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সহজ ছিল না তার জন্য সেটি জানান। এছাড়াও বক্তব্যের শুরুতেই প্রয়াত বাবার কথা স্মরণ করেন মেসি।
‘আজ কিছু বলা খুব কঠিন। অনেক আবেগ, অনেক কিছু মাথার মধ্যে ঘুরছে। প্রথমেই আমার বাবার কথা মনে হচ্ছে।’
এরপর আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলেন তিনি।
‘এই জার্সি পরতে পারাটা আমার জন্য বিশাল সম্মানের ছিল। সবচেয়ে খারাপ সময়েও আমি কখনো লড়াই থামাইনি, চেষ্টা থামাইনি, নিজের সবটুকু দেওয়া থামাইনি। সব সময় এখানে থাকতে চেয়েছি।’
জাতীয় দলের ক্যাম্পে আর নিয়মিত ফিরবেন না, এই বাস্তবতাটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে মেসিকে।
‘আর এখানে না আসতে পারা অনেক বড় কষ্টের হবে। শপথ করে বলছি, আমি সারা জীবনই এখানে আসতে চাই। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন ফুটবলারের জীবনে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার।’
তাহলে কেন এখনই বিদায়?
মেসি বললেন, শরীর ও মনের ওপর গত বিশ্বকাপের ধকলও তার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
‘আমি এখানে সারা জীবন থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, সময়টা এসে গেছে। গত বিশ্বকাপটা আমার জন্য অনেক বেশি ছিল, সবকিছু মিলিয়ে।’
২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন ভাঙে।
বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের কথা তুলে ধরেন মেসি। তার ভাষায়, ম্যাচটি আর্জেন্টিনা দলের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় ধকল ফেলেছিল।
‘ইংল্যান্ড ম্যাচটা আমাদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বড় ধকল ছিল। সত্যি বলতে, আমরা কোনোমতে পরের ম্যাচে পৌঁছেছিলাম। তারপরও সব সময়ের মতো লড়েছি।’
নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পাশে পাওয়া সতীর্থদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান মেসি।
‘আমার পাশে যেসব সতীর্থ ছিল, তারা সব সময় এই জার্সির জন্য সবকিছু দিয়েছে। এই দলটাই আমাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। তারা পাশে থাকলে জানতাম, আমার সঙ্গে এমন কিছু যোদ্ধা আছে যারা সবকিছু দিয়ে দেবে।’
সমর্থকদের কথাও আলাদা করে বলেছেন আর্জেন্টিনার বিদায়ী অধিনায়ক। বিশ্বকাপ হোক কিংবা কোপা আমেরিকা, পৃথিবীর যেখানেই খেলেছেন, আর্জেন্টাইনদের উপস্থিতি অনুভব করেছেন তিনি।
‘আমরা যেখানেই খেলেছি, মনে হয়েছে নিজেদের মাঠেই খেলছি। আপনারা সব জায়গায় ছিলেন। কত কষ্ট করে আপনারা বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকায় যান, আমরা সেটা জানি এবং অনুভব করি।’
মনুমেন্তালের সঙ্গে নিজের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতিটিও মনে করেছেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশের মাটিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে যে অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন, সেটিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সুখের দিন বলেছেন তিনি।
‘আজও সেই দিনের ভিডিও দেখি, আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর ঘটনাগুলোর একটি ছিল সেটি। আমাদের সবার ইতিহাসে দিনটা থেকে যাবে।’
এরপরই আসে বিদায়ের সবচেয়ে কঠিন কথাগুলো।
‘আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃখের দিন। জাতীয় দল এবং আপনাদের সবাইকে বিদায় বলছি। এই জার্সির হয়ে খেলা খুব মিস করব।’
তবে মাঠ ছাড়লেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মেসি।
‘এখন আমি আপনাদের পাশে থাকব। এই ছেলেদের এবং ভবিষ্যতে যারা আসবে তাদের সমর্থন করব। সব সময় একসঙ্গে থাকতে হবে।’
বক্তব্য যত এগিয়েছে, বিদায় নিতে ততই যেন কষ্ট হয়েছে তার। শেষদিকে নিজেই সেটি স্বীকার করেন।
‘আজ মনে হয় জীবনে সবচেয়ে বেশি কথা বলে ফেললাম। আসলে এখান থেকে যেতে চাই না। মাঠটা ছেড়ে যেতে চাই না।’
তারপর শেষবারের মতো মনুমেন্তালের মানুষদের উদ্দেশে মেসির কথা, ‘আমি আপনাদের ভালোবাসি। আর্জেন্টাইন হতে পেরে আমি গর্বিত। আপনাদের সঙ্গে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’
-eefce1.webp)
-ca2e12.webp)

-520d6f.webp)