বিশ্বকাপের সময় মেক্সিকোর শিক্ষকদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নতুন অস্বস্তিতে পড়তে পারে সহ-আয়োজক মেক্সিকো। বেতন, পেনশন, চাকরির নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিশ্বকাপ চলাকালে জাতীয় ধর্মঘটে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির শিক্ষক সংগঠন ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর অব এডুকেশন ওয়ার্কার্স (সিএনটিই)।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে মেক্সিকো। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে টুর্নামেন্ট। মেক্সিকোর স্কুল ক্যালেন্ডারও এই সময়ের বড় অংশের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এর মধ্যেই শিক্ষক সংগঠনের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক।
সিএনটিই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা বিশ্বকাপের সময় জাতীয় ধর্মঘট ডাকবে। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ পেনশন, ন্যায্য বেতন, চাকরির নিরাপত্তা এবং করপোরেট স্বার্থের বদলে মানুষের সেবায় নিয়োজিত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কেন্দ্রে আছে ২০০৭ সালের বিতর্কিত আইএসএসএসটিই আইন। এই আইনের মাধ্যমে মেক্সিকোর সরকারি কর্মীদের পেনশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, এই আইন শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ অবসরজীবনের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে হাজারো শিক্ষক ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। দিনটি ছিল মেক্সিকোর শিক্ষক দিবস। তবে সিএনটিই বলেছে, ‘লড়াই শুধু শিক্ষকদের জন্য নয়; এটি সেই সব শ্রমিকের জন্য, যাদের মর্যাদাপূর্ণ অবসর আজ হুমকির মুখে।’
সংগঠনটির ভাষায়, লাখো শ্রমিক যখন সামান্য পেনশনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তখন উদ্যাপনের কিছু নেই।
এর আগে চলতি মাসে মেক্সিকোর পাবলিক এডুকেশন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, গরমের তীব্রতা ও বিশ্বকাপ আয়োজনের কারণে স্কুল বছর ১৫ জুলাইয়ের বদলে ৫ জুন শেষ করার বিষয়ে রাজ্য শিক্ষা কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে তারা একমত হয়েছে। অর্থাৎ স্কুল বছর প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে সেই সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়ে। সিএনটিই ছাড়াও মেক্সিকোর ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টস এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। পরে মেক্সিকো সরকার স্কুল বছর এগিয়ে শেষ করার পরিকল্পনা বাতিল করে।
মেক্সিকোয় অবশ্য শিক্ষক অধিকার ও বেতন-পেনশন নিয়ে আন্দোলন নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসেও বেতনের দাবিতে শিক্ষক ইউনিয়নের বিক্ষোভে মেক্সিকো সিটির বেনিতো হুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সেই বিক্ষোভের এক সপ্তাহ আগে সরকার শিক্ষকদের বেতন ১০ শতাংশ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত এক সপ্তাহ ছুটি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।ষয়।
