logo
Advertisement
প্রিমিয়ার লিগ

হালান্ড-শেরকির জোড়া গোলে সিটির দাপুটে জয়

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হালান্ড-শেরকির জোড়া গোলে সিটির দাপুটে জয়
ম্যাচে জোড়া গোল করেন হালান্ড ও শেরকি। ছবি: রয়টার্স

পেপ গার্দিওলা পরবর্তী যুগের শুরুটা ভালোই হচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটির। আর্লিং হালান্ড ও রায়ান শেরকির জোড়া জোড়া গোলে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে এনজো মারেস্কার দল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে এটি সিটির টানা দ্বিতীয় জয়।

Advertisement

শুক্রবার রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠ সেলহার্স্ট পার্কে দুটি করে গোল করেন হালান্ড ও শেরকি। স্বাগতিকদের একমাত্র গোলটি ম্যানচেস্টার সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার আত্মঘাতী গোল হিসেবে লেখা হয়েছে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো করেছিল প্যালেস। নিজেদের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সিটিকে চাপে রাখার চেষ্টা করে তারা। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে সফরকারীরা।

১৭তম মিনিটে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্ড। আন্তোয়ান সেমেনিওর নিখুঁত ক্রসে লাফিয়ে উঠে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠান নরওয়েজিয়ান তারকা। নতুন মৌসুমে লিগে এটিই তার প্রথম গোল।

চার মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ফিল ফোডেন। কিন্তু ভালো অবস্থান থেকে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার। বিরতির আগে শেরকির একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন। ফলে এক গোলের এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সিটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল প্যালেস। এডি এনকেতিয়ার সামনে গোল করার ভালো সুযোগ এলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। সেই ব্যর্থতার শাস্তি দিতে বেশি সময় নেয়নি সিটি।

৫৪তম মিনিটে ম্যাচে নিজের প্রথম গোল করেন শেরকি। ফোডেনের কাছ থেকে বল পেয়ে প্যালেসের কয়েকজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ ছোঁয়ায় হেন্ডারসনকে পরাস্ত করেন ফরাসি এই তারকা।

দুই মিনিট পরই অবশ্য একটি গোল ফিরিয়ে দেয় প্যালেস। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে দোন্নারুম্মার পিঠে আঘাত করে জালে ঢুকে যায়। গোলটি পরে সিটির ইতালিয়ান গোলরক্ষকের আত্মঘাতী গোল হিসেবে লেখা হয়।

প্যালেসের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা অবশ্য মাত্র তিন মিনিট স্থায়ী হয়। ৫৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শেরকির নেওয়া জোরালো শট ক্রিস রিচার্ডসের শরীরে লেগে দিক বদলে জালে জড়ায়। এতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিটি।

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে প্যালেসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন হালান্ড। ফোডেনের পাস ধরে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন তিনি।

নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত শুরু করেছেন শেরকি। বোর্নমাউথের বিপক্ষে সিটির প্রথম ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুটি গোলে সহায়তা করেছিলেন তিনি। এবার প্যালেসের বিপক্ষে করলেন দুই গোল। দুই ম্যাচে সিটির চার গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন ফরাসি এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার।

জোড়া গোল করেও নিজের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন শেরকি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স মোটামুটি ছিল। প্রথমার্ধে আমরা জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, আমিও ভালো খেলিনি। আমাকে দেখাতে হবে যে আমি খেলতে এবং গোল করতে চাই।’

সিটি কোচ মারেস্কা বলেন, ‘প্রথম পাঁচ থেকে দশ মিনিটেই বোঝা গিয়েছিল ম্যাচটি কঠিন হবে। এরপর বলসহ এবং বল ছাড়া আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। জয়টি আমাদের প্রাপ্য ছিল।’

প্রথম দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট পাওয়া সিটির পরবর্তী প্রতিপক্ষ নবাগত কভেন্ট্রি সিটি। এরপর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মৌসুমের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে তারা।