‘৭৩ গোলই কথা বলে’, ব্যালন ডি’অর নিয়ে কেইন

গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৩ গোল। ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে নিজের পক্ষে এই সংখ্যাটাই যথেষ্ট বড় যুক্তি বলে মনে করেন হ্যারি কেইন। তবে ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চান না ইংল্যান্ড অধিনায়ক। একই সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসির খেলোয়াড়ি সামর্থ্যের পাশাপাশি তার বিনয় ও দলকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতারও প্রশংসা করেছেন কেইন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২৫-২৬ মৌসুমকে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম বলেছেন বায়ার্ন স্ট্রাইকার। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছিলেন তিনি। এই শতাব্দীতে এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু মেসি, ২০১১-১২ মৌসুমে ৬৯ ম্যাচে ৮২টি।
ব্যালন ডি’অরের প্রসঙ্গে কেইন বলেন, ‘আমি কখনোই নিজের সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করি না। শুধু এটুকু বলব, গত মৌসুম ব্যক্তিগত ও দলীয় দুই দিক থেকেই অবিশ্বাস্য ছিল। নিঃসন্দেহে সেটি ছিল আমার জীবনের সেরা মৌসুম।’
নিজের গোলসংখ্যার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড, ‘৭৩ গোলের সংখ্যাটা নিজের কথাই বলে। এটা নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। সতীর্থ এবং যারা আমাকে এই জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে পারি।’
তবে ব্যালন ডি’অর জেতার দাবি নিজে থেকে তুলতে রাজি নন কেইন। তার ভাষায়, ‘ব্যালন ডি’অর আমার হাতে নেই। যারা ভোট দেন, সিদ্ধান্ত তাদের। আমার কাছে গত মৌসুম এখন অতীত। আমি বর্তমান মৌসুমেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
ব্যালন ডি’অরের এবারের দৌড়ে কেইনের পাশাপাশি আলোচনায় আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির মতো তারকারা। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনো ইংলিশ ফুটবলার পুরস্কারটি জেতেননি। আগামী ২৬ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে এবারের বিজয়ীর নাম।
কেইনের সাক্ষাৎকারে মেসির প্রসঙ্গ এসেছে একাধিকবার। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ সময়ের আধিপত্যের প্রশংসা করেন তিনি।
কেইন বলেন, ‘মেসি ও রোনালদো পুরো একটি প্রজন্ম ধরে ফুটবলে আধিপত্য করেছে। তারা ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের দুজন। তাদের সঙ্গে একই আলোচনায় থাকতে পারাটাই বিশেষ কিছু।’
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনার কাছেই বিদায় নিয়েছিল কেইনের ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচের পর মেসিকে জড়িয়ে ধরে ফাইনালের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক।
মেসিকে নিয়ে কেইন বলেন, ‘তার প্রতি আমার প্রচণ্ড শ্রদ্ধা আছে। সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। যারা তাকে কাছ থেকে চেনে, তাদের কাছ থেকে শুনেছি মানুষ হিসেবেও সে দারুণ। আমি কয়েকবার তার সঙ্গে কথা বলেছি, আমার কাছে তাকে খুব বিনয়ী মনে হয়েছে।’
মেসির সাফল্যের পেছনে দলকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতাও বড় কারণ বলে মনে করেন কেইন। তার কথায়, ‘সে সবসময় নিজেকে নয়, দলকে সামনে রেখেছে। আমার মনে হয় আর্জেন্টিনার সাফল্যের পেছনে এটিও একটি কারণ।’


