logo

ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের

ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের
গোলের পর ইব্রাহিমের উল্লাস। ছবি: পিয়াল হাসান

একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল হতাশায়। দ্বিতীয়ার্ধেও কিছুতেই ভাঙছিল না ভুটানের রক্ষণদুর্গ। ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা তখন বাংলাদেশের সামনে। অবশেষে সেই হতাশা দূর করলেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তার একমাত্র গোলে ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ আট বছর পর দেশের মাটিতে ফিরে আসা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের আসরে স্বস্তির জয় পেয়েছে থমাস ডুলির দল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি স্বাগতিক ফুটবলাররা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচের পরিবর্তনের সুফল পায় দল। ৬৯তম মিনিটে ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওয়ার্মআপের সময় চোট পাওয়ায় ঘোষিত একাদশ থেকে ছিটকে যান অধিনায়ক তপু বর্মন। তার জায়গায় শেষ মুহূর্তে একাদশে সুযোগ পান সৈয়দ কাজেম কিরমানী শাহ। ফলে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান জামাল ভূঁইয়া।

তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকেও প্রথম ম্যাচে পায়নি বাংলাদেশ। ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি তিনি। এমন পরিস্থিতিতে আক্রমণভাগে বড় চমক রাখেন কোচ ডুলি। নিয়মিত ডিফেন্ডার হিসেবে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষকে মূল স্ট্রাইকারের দায়িত্ব দেন তিনি।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। বলের দখল রেখে ভুটানকে নিজেদের অর্ধে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন জামাল-রাকিবরা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই ভালো একটি আক্রমণ তৈরি করে স্বাগতিকরা। রাকিব হোসেনের ক্রস বিশ্বনাথের কাছে পৌঁছানোর আগেই বিপদমুক্ত করেন ভুটানের ডিফেন্ডাররা। ফিরতি বলে জামালের জোরালো শটও আটকে যায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে।

অষ্টম মিনিটে গোলের সুযোগ পান ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। বক্সের বাইরে থেকে তার প্রথম শট আটকে দেন ভুটানের এক ডিফেন্ডার। ফিরতি বলে নেওয়া আরেকটি শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান গোলরক্ষক গিয়েলৎশেন জাংপো।

এরপর শমিত সোমের একটি হেডও দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন ভুটানের গোলরক্ষক। বল তার গ্লাভস ফসকে বেরিয়ে গেলেও বিশ্বনাথের আগেই সেটি নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। ১৮তম মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে হেড নিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। তবে বল চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।

২৫তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন বিশ্বনাথ। শমিতের প্রচেষ্টা গোলরক্ষক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করার পর সেই কর্নার থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার ভলি দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

৩৮তম মিনিটেও গোলের দারুণ সুযোগ পান বিশ্বনাথ। সতীর্থের পাস ধরে গোলরক্ষকের সামনে পৌঁছে গেলেও কোনাকুনি শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হতে থাকায় ক্রমেই হতাশা বাড়তে থাকে বাংলাদেশের সমর্থকদের।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণে খুব একটা চাপ তৈরি করতে পারেনি ভুটান। ৪০তম মিনিটে প্রথমবার স্বাগতিকদের গোলমুখে লক্ষ্যে শট নেয় সফরকারীরা। তবে সহজেই বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।

বিরতির আগে জামালের ফ্রি কিক থেকে আরও একটি সুযোগ তৈরি হয়। শমিতের হেডে বাড়ানো বল গোলমুখে থাকা জিদান ইউসুফ ও সাদ উদ্দিন কেউই কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।

এদিকে প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে সাদ উদ্দিনের সঙ্গে সংঘর্ষে আঘাত পান ভুটানের এক ফুটবলার। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। চিকিৎসাকর্মীদের সহায়তায় মাঠ ছাড়ার পর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ায় বিরতির পরপরই আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন ডুলি। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে তুলে ফাহামিদুল ইসলামকে মাঠে নামান তিনি। তবে নতুন খেলোয়াড় নামানোর পরও কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর সময়টাতেও ক্রসনির্ভর আক্রমণে ভুটানের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা চালায় স্বাগতিকরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ এবং আক্রমণের শেষ মুহূর্তে নিজেদের ব্যর্থতায় গোলের দেখা মিলছিল না।

এরপর আক্রমণভাগে আরও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ কোচ। ৬৪তম মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও বিশ্বনাথ ঘোষকে তুলে মাঠে নামান মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং সোহেল রানা জুনিয়রকে। শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

মাঠে নামার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোল করে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন ইব্রাহিম। ৬৯তম মিনিটে জায়ান আহমেদের ক্রস থেকে ভুটানের বক্সে বল পৌঁছালে হেড নেন শমিত সোম। তার হেডের পর বল ওপরে উঠে গোলমুখের কাছেই নেমে আসে। সেখানে ঠিক জায়গায় উপস্থিত ছিলেন ইব্রাহিম। পা বাড়িয়ে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তিনি।

দীর্ঘক্ষণ গোলের অপেক্ষায় থাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন স্বস্তির উচ্ছ্বাস। প্রথমার্ধে এত সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে লিড পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

গোল পাওয়ার পরও আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভুটান। তবে শেষদিকে নিজেদের রক্ষণ সামলে রাখতে সক্ষম হয় ডুলির দল।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। আগামী ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। তার আগে ৮ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে খেলবে শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচের ফলও বাংলাদেশের সেমিফাইনালের সমীকরণে প্রভাব ফেলবে।

নুরসাদ আমিন

সম্পাদনা

নুরসাদ আমিন

স্পোর্টস রিপোর্টার | এশিয়া পোস্ট