এমবাপ্পে-বিতর্ক মেটাতে রিয়াল-লা লিগার সঙ্গে যোগাযোগে চীন
-1dc903-720x405.webp)
কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি মন্তব্য ঘিরে চীনের সঙ্গে তৈরি হওয়া সংকট কাটাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও স্প্যানিশ লা লিগা কর্তৃপক্ষ। ফরাসি তারকার পাশাপাশি ক্লাব ও লিগ কর্তৃপক্ষও ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু তাতেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বন্ধ রয়েছে লা লিগার সম্প্রচার, অন্যদিকে ডিজিটাল সম্প্রচারমাধ্যম থেকেও বাদ পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ। এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে যোগাযোগের বিষয়টি এবার নিশ্চিত করেছে চীন।
দেশটির রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগার সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্পেনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সালামাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এমবাপ্পের মন্তব্যের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, লা লিগা এবং স্পেনের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে চীন।
তবে এসব যোগাযোগকে এখনই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বলতে রাজি নন চীনা রাষ্ট্রদূত। ইয়াও জিং বলেন, ‘কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যোগাযোগ হচ্ছে।’
ফরাসি তারকার মন্তব্যে চীনের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা চীনের অনেক মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিতে তাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন।’
মূলত একটি ইন্টারনেট মিম নিয়ে এমবাপ্পের মন্তব্য থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। ফরাসি অনুষ্ঠান ‘দ্য ব্রিজ’-এর একটি ভিডিওতে নিজের পছন্দের মিম সম্পর্কে কথা বলেন রিয়াল তারকা। সেখানে এমন একটি ছবির কথা উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে চীনের সাবেক নেতা মাও সে-তুংয়ের মুখের জায়গায় তার মুখ বসানো হয়েছিল।
ছবিটির প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে সম্ভবত একজন ‘চীনা স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এমবাপ্পে। যদিও সরাসরি মাও সে-তুংয়ের নাম উচ্চারণ করেননি তিনি। কিন্তু ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ফরাসি অধিনায়ক।
বিতর্কের জেরে গত ২৬ অক্টোবর থেকে লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার স্থগিত করে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি। এমবাপ্পের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির একাধিক প্রতিষ্ঠান। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিধিনিষেধের মুখে পড়ে তাঁর অ্যাকাউন্ট।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন দেশটির ডিজিটাল সম্প্রচারমাধ্যম মিগু রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ সম্প্রচার বন্ধ রাখে। গত ১ নভেম্বর রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচ নিজেদের সূচিতে রাখেনি প্রতিষ্ঠানটি। অথচ একই সময়ে স্প্যানিশ লিগের অন্য দলগুলোর ম্যাচ সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছিল, শুধু সরাসরি সম্প্রচারই নয়, মিগুর প্ল্যাটফর্মে আগের ম্যাচগুলোর তালিকা থেকেও রিয়াল মাদ্রিদের একাধিক ম্যাচের ভিডিও ও হাইলাইটস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সেগুলো স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে চীনা জনগণের কাছে ক্ষমা চান এমবাপ্পে। ফরাসি, চীনা ও ইংরেজি ভাষায় দেওয়া বিবৃতিতে নিজের মন্তব্যকে অবিবেচনাপ্রসূত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। চীনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতি শ্রদ্ধার কথাও জানান এই ফরোয়ার্ড।
এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীনের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লাগায় তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একই সঙ্গে দেশটির বিপুলসংখ্যক রিয়াল সমর্থকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লা লিগা কর্তৃপক্ষও আলাদাভাবে দুঃখ প্রকাশ করে।
কিন্তু একের পর এক ক্ষমা প্রার্থনার পরও নিজেদের অবস্থান বদলায়নি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। চায়না মিডিয়া গ্রুপ জানিয়েছিল, এমবাপ্পের ক্ষমা প্রার্থনা তারা বিবেচনায় নেবে। তবে শুধু কথায় নয়, ভবিষ্যতে তার আচরণেও পরিবর্তন দেখতে চায় সংস্থাটি।
এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। সংকট সমাধানে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) ওয়ার্ল্ড ইন প্রোগ্রেস ফোরামে তেবাস বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে লা লিগা। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি ও ডিজিটাল সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান মিগুর সঙ্গে লিগ কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত ভালো বলেও দাবি করেন তিনি।
চীনের বাজার স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মিগুর সঙ্গে লা লিগার সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে ২০২৯-৩০ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। তেবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিসিটিভি ও মিগুর সঙ্গে লা লিগার সম্প্রচার চুক্তিগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক মূল্য প্রায় এক কোটি ইউরো। একসময় এই অঙ্ক বছরে ১০ কোটি ইউরো পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
