সর্বকালের সেরা পাঁচে নিজেকেও রাখলেন রোমারিও

মাঠে তিনি ছিলেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য এক নির্মম ও নিষ্ঠুর ফিনিশার। আর মাঠের বাইরে? ঠিক ততটাই অকপট, অতি-আত্মবিশ্বাসী এবং ঠোঁটকাটা স্বভাবের। বয়স এখন ৬০ ছুঁয়েছে; বুট জোড়া তুলে রেখে রাজনীতি আর ইউটিউব টকশোতেই কাটে ব্যস্ত সময়। তবে নিজের ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আত্মবিশ্বাসে এতটুকুও ভাটা পড়েনি ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রোমারিওর।
সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই সেলেসাও স্ট্রাইকার আবারও প্রমাণ করলেন, ‘মিথ্যে বিনয়’ শব্দটা তাঁর অভিধানে নেই। নিজেকে রেটিং দিতে বলা হলে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না রেখে তার চটজলদি উত্তর—তিনি নিজেকে ১০–এ ১১ দেবেন!
নিজেকে দশে এগারো দিয়েই থামেননি বার্সেলোনার এই সাবেক তারকা। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিজেকে ওপরের সারিতেই রেখেছেন। তার দাবি, ফুটবল ইতিহাসের সেরা পাঁচ ফুটবলারের একজন তিনি। তবে মজার ব্যাপার হলো, নিজের চোখে সর্বকালের সেরা পাঁচের তালিকা মেলাতে গিয়ে রোমারিও নাম বলে ফেলেছেন ছয়জনের!
রোমারিওর চোখে সর্বকালের সেরা ‘পাঁচ’ (ছয়) ফুটবলার:
- পেলে (ব্রাজিল)
- ডিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা)
- লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
- ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)
- রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল)
- রোমারিও (নিজে)
রোমারিওর এই অতি-আত্মবিশ্বাস অবশ্য নতুন কিছু নয়। ক্যারিয়ারজুড়েই নিজের প্রতিভা নিয়ে এমন অকপট ছিলেন তিনি। অনুশীলনে অনীহা, ছন্নছাড়া নৈশজীবন কিংবা কোচের সঙ্গে প্রকাশ্য কোন্দল—এসব নিয়ে সমালোচকদের প্রিয় পাত্র ছিলেন এই স্ট্রাইকার। তবে সব সমালোচনার জবাব তিনি দিতেন মাঠের পারফরম্যান্সে। মাঠে নামা মানেই গোল, ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া আর দলকে জেতানো—এই এক সমীকরণেই চলতেন তিনি।

১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপই রোমারিও-স্তুতির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। সেবার সেলেসাওদের চতুর্থ বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার পথে তিনি ছিলেন দলের মূল কাণ্ডারি। বেবেতোর সঙ্গে তাঁর সেই জাদুকরী জুটি, পেনাল্টি বক্সে চোখের পলকে স্পেস তৈরি করার সহজাত ক্ষমতা আর খর্বকায় শরীর নিয়েও অবিশ্বাস্য শারীরিক ভারসাম্য—সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছিলেন ‘গোল্ডেন বল’।
হলুদ জার্সির পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও ছিল তাঁর সমান দাপট। পিএসভি আইন্দহোভেন, বার্সেলোনা, ভাস্কো দা গামা কিংবা ফ্লামেঙ্গোর হয়ে গোলবন্যা ছুটিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে বার্সেলোনায় টোটাল ফুটবলের জনক ইয়োহান ক্রুইফের অধীনে তাঁর কাটানো সময়টা ফুটবল রোমান্টিকদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে। পেনাল্টি বক্সে তাঁর ক্ষিপ্র ও নিখুঁত মুভমেন্টের কারণেই তাঁকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ‘নম্বর নাইন’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বর্তমান দল নিয়েও নিজের ক্ষোভ ও আক্ষেপ লুকাতে পারেননি রোমারিও। তাঁর মতে, ইউরোপের বড় বড় লিগে ব্রাজিলিয়ানরা দুর্দান্ত খেললেও জাতীয় দলের জার্সিতে সেই চেনা ধার উধাও। সেলেসাওরা আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হোক—এমনটা মনেপ্রাণে চাইলেও শিরোপার পথটা যে এবার বেশ কঠিন, তা মনে করিয়ে দিতে ভুলেননি এই কিংবদন্তি।
