logo
Advertisement

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে যে সতর্কসংকেত এড়িয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে যে সতর্কসংকেত এড়িয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা
দিয়েগো ম্যারাডোনা। ছবি: সংগৃহীত

দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তার শারীরিক অবস্থায় গুরুতর কিছু সতর্কসংকেত ছিল, যা চিকিৎসকদের নজর এড়িয়ে গেছে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির মৃত্যুর ঘটনায় চলমান মামলায় এমনটাই জানিয়েছেন একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ।

Advertisement

মঙ্গলবার বুয়েনস আইরেসের কাছে আদালতে সাক্ষ্য দেন নেফ্রোলজিস্ট হার্নান ত্রিমার্চি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে ভুগছিলেন এবং সেটি তার চিকিৎসকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হওয়া উচিত ছিল।

ম্যারাডোনার কিডনিতে বেশ কিছু ক্ষতও ছিল বলে আদালতকে জানিয়েছেন ত্রিমার্চি। তার মতে, দীর্ঘদিনের স্থূলতা, কোকেন সেবনের ইতিহাস এবং উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে এসব সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞের মতে, এমন অবস্থায় ম্যারাডোনাকে প্রতিদিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার ছিল। নিয়মিত নার্সিং সেবা, রক্তপরীক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক পর্যবেক্ষণও প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার অস্ত্রোপচারের পর প্রায় দুই সপ্তাহ বাড়িতে থাকার সময় তার কোনো রক্তপরীক্ষা করা হয়েছিল, এমন রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে আদালতে জানান ত্রিমার্চি।

শুধু কিডনির সমস্যাই নয়, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপকেও উদ্বেগজনক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন এই বিশেষজ্ঞ।

এর আগে আদালতে ম্যারাডোনার মৃত্যুশয্যার বেশ কিছু ছবিও দেখানো হয়েছিল। সেখানে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। ময়নাতদন্তেও জানা যায়, মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা গুরুতর শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

ত্রিমার্চি এ নিয়ে তৃতীয় বিশেষজ্ঞ, যিনি আদালতে বলেছেন ম্যারাডোনার চিকিৎসকেরা মৃত্যুর আগে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত যথাযথভাবে আমলে নেননি।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসের তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে মারা যান ম্যারাডোনা। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার অস্ত্রোপচারের পর সেখানে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় ছিলেন তিনি। হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমে যাওয়াকে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও নার্সিং স্টাফসহ সাত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার অভিযোগে বিচার চলছে। বাড়িতে রেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত তার জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আদালত।

অভিযুক্তরা অবশ্য ম্যারাডোনার মৃত্যুর দায় অস্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিচার অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে যে সতর্কসংকেত এড়িয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা