উয়েফার বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগ ফিফার

বিশ্ব ফুটবলের দুই শীর্ষ সংস্থা ফিফা ও উয়েফার বিরোধ এবার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফিফা অভিযোগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচারণা’ চালাচ্ছে উয়েফা এবং আসন্ন ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ফিফার বাতিল হয়ে যাওয়া ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ নতুন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের প্রস্তাব ছিল।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের কাছে নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহের অনুমতি চায় উয়েফা। সুইজারল্যান্ডে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই আবেদন করা হয়।
সোমবার আদালতে দেওয়া জবাবে ফিফা দাবি করেছে, উয়েফার আবেদনে ফিফা ও ইনফান্তিনোকে নিয়ে ‘অনেক মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ রয়েছে।
ফিফা বলেছে, ‘কোনো ভিত্তি ছাড়াই উয়েফা ইঙ্গিত দিয়েছে যে এফএফই প্রস্তাব থেকে মি. ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চেয়েছিলেন।’
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, প্রস্তাবটি কার্যকর করতে ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হতো এবং নতুন প্রতিষ্ঠানটিও তাদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। ইনফান্তিনো কোনো আইন বা নৈতিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন বলে উয়েফার ইঙ্গিতও প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা।
অন্যদিকে উয়েফার অভিযোগ, সীমিতসংখ্যক উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে গোপনে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছিল এবং ফিফা কাউন্সিল, আঞ্চলিক কনফেডারেশন কিংবা সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি। প্রস্তাব অনুযায়ী বিনিয়োগকারীরা ৪.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এফএফইর অংশীদারত্ব পেতেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করেছে উয়েফা।
প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন নিয়েও দুই পক্ষের মতবিরোধ রয়েছে। উয়েফার হিসাবে এফএফইর মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল এবং এতে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্বের যথাযথ মূল্য প্রতিফলিত হয়নি। ফিফার পাল্টা দাবি, ২০ বিলিয়ন ডলার ছিল কেবল ইকুইটি মূল্য; প্রতিষ্ঠানের মোট মূল্য ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল।
ব্যাপক বিরোধিতার মুখে জুলাইয়ে এফএফই পরিকল্পনা বাতিল করে ফিফা। উয়েফার পাশাপাশি কনকাকাফ ও এএফসিও তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। এরপর ফিফার পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার দাবিও জোরালো হয়।
আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। আদালতের নথিতে ফিফার দাবি, সেই নির্বাচন সামনে রেখেই উয়েফার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে উয়েফা এই সর্বশেষ অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।
