logo

কম্পিউটারের ‘পজ-ব্রেক’ বোতামের কাজ কী

কম্পিউটারের ‘পজ-ব্রেক’ বোতামের কাজ কী
ছবি: শাটার স্টক

ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের কিবোর্ড আমরা লেখালেখিসহ অন্যান্য অনেক কাজেই ব্যাবহার করি। কিন্তু এর মধ্যেই এমন কিছু বোতাম আছে, যেগুলোর কাজ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। ‘পজ-ব্রেক’ তেমনই একটি বোতাম।

সাধারণত কিবোর্ডের ওপরের ডান দিকে ‘প্রিন্ট স্ক্রিন ও স্ক্রল লক’ বোতামের পাশেই এটি থাকে। তবে ছোট কিবোর্ড বা নতুন যেসব ল্যাপটপের মডেল আছে, সেগুলোতে আলাদা করে এই বোতাম নাও থাকতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই বোতামের কাজ কী? এটি কি কম্পিউটার বন্ধ করে দেয়, নাকি চলমান কোনো কাজ থামাতে পারে? আসলে Pause/Break বোতামের ব্যবহার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে। পুরোনো কম্পিউটারে এর প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকলেও বর্তমানে কিছু বিশেষ কাজেই শুধুমাত্র এটি ব্যবহার করা হয়।

‘পজ-ব্রেক’ বোতাম কী, কাজ কী ছিল

আগের দিনের কম্পিউটারে, বিশেষ করে ডস (DOS) অপারেটিং সিস্টেমে, পর্দায় অনেক তথ্য দ্রুত ভেসে উঠত। তখন সব তথ্য একসঙ্গে পড়া কঠিন হয়ে যেত। ওই সময় ‘পজ’ বোতাম ব্যবহার করে কিছু ক্ষেত্রে পর্দায় তথ্য দেখানোর গতি সাময়িকভাবে থামানো যেত। ফলে ব্যবহারকারী প্রয়োজনীয় তথ্য পড়ার সময় পেতেন।

অন্যদিকে, ‘ব্রেক’ বোতামটি নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার পরিবেশে চলমান নির্দেশ বা প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে ব্যবহার করা হতো। বিশেষ করে প্রোগ্রামিং ও কমান্ডভিত্তিক কাজের সময় এর প্রয়োজন হতো।

তবে বুঝতে হবে, এই বোতাম সব কম্পিউটারে সব ধরনের কাজ থামিয়ে দিতে পারে না। এর কার্যকারিতা অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার এবং ব্যবহৃত কিবোর্ডের ওপর নির্ভর করে।

এখনো কি এই বোতাম কাজে লাগে

আধুনিক কম্পিউটারে এর ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। অধিকাংশ সাধারণ ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজ, যেমন ইন্টারনেট ব্যবহার, লেখালেখি বা ভিডিও দেখা; এসবের জন্য আলাদা করে এই বোতাম চাপার কোনো প্রয়োজন হয় না।

তবে কিছু কমান্ড-লাইন প্রোগ্রাম ও বিশেষ সফটওয়্যারে এটি এখনো কাজে লাগে। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ‘কন্ট্রোল+ব্রেক’ চাপলে চলমান কমান্ড বা প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া যায়। কিন্তু সব সফটওয়্যারে এই শর্টকাট কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এ কারণে বোতামটি কিবোর্ডে থাকলেও অনেক ব্যবহারকারী বছরের পর বছর এটি ব্যবহার করেন না।

নতুন ল্যাপটপে এই বোতাম থাকে না কেন?

নতুন ল্যাপটপের কিবোর্ড অনেক সময় ডেস্কটপ কম্পিউটারের কিবোর্ডের তুলনায় ছোট হয়। জায়গা বাঁচাতে নির্মাতারা কম ব্যবহৃত কিছু বোতাম ল্যাপটপে বাদ দেন। তাই এই বোতামও অনেক মডেলে আলাদা করে রাখা হয় না।

কিছু ল্যাপটপে অবশ্য ‘এফএন’ বোতামের সঙ্গে অন্য কোনো বোতাম ব্যবহার করে একই কাজ করা যায়। এক্ষেত্রে কোন বোতামের সঙ্গে কোন সমন্বয় কাজ করবে, তা নির্দিষ্ট ল্যাপটপের মডেল ও নির্মাতার ওপর নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন হলে ল্যাপটপের নির্দেশিকা দেখে নেওয়া ভালো।

‘পজ-ব্রেক’ চাপলে কি কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়

না। এই বোতামকে কম্পিউটার বন্ধ করার বোতাম মনে করা ঠিক নয়। সাধারণ উইন্ডোজ ডেস্কটপে শুধু এই বোতাম চাপলে অনেক সময় চোখে পড়ার মতো কোনো পরিবর্তনই হয় না।

একইভাবে, এটি কম্পিউটার হ্যাং হয়ে গেলে সব সময় সেটি ঠিকও করে দিতে পারে না। কোনো সফটওয়্যার আটকে গেলে সেই সফটওয়্যারের নিজস্ব বন্ধ করার ব্যবস্থা বা প্রয়োজন অনুযায়ী টাস্ক ম্যানেজার ব্যবহার করার দরকার হতে পারে।

বোতামটি কি তাহলে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়?

সবার জন্য নয়। যারা কমান্ড-লাইনভিত্তিক কাজ করেন, পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করেন কিংবা নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত কাজে যুক্ত, তাদের কাছে এই বোতামটি এখনো প্রয়োজনীয় হতে পারে।

তবে সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এটি প্রতিদিনের কাজে খুব একটা দরকারি নয়। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার কমে যাওয়ায় অনেক নতুন কিবোর্ডে বোতামটি আর রাখা হচ্ছে না।

এই বোতাম কম্পিউটারের পুরোনো দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যার ব্যবহার এখন অনেকটাই সীমিত। আগে পর্দায় তথ্য দেখানো সাময়িকভাবে থামানো কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে বাধা দেওয়ার মতো কাজে এটি ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে কিছু বিশেষ সফটওয়্যার ও কমান্ড-লাইন পরিবেশে এর ব্যবহার থাকলেও সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারে এটি অপরিহার্য নয়।

তাই কিবোর্ডে বোতামটি দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি কোনো রহস্যময় বোতাম নয়, বরং কম্পিউটার প্রযুক্তির বিবর্তনের একটি অংশ।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মাইক্রোসফট ইগনাইট-এ ‘Query about Pause/Break key on the Keyboard’ শিরোনামে একটি প্রশ্নের প্রকাশিত উত্তর থেকে অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।