logo
Advertisement

নতুন ফিচার নিয়ে এলো চ্যাটজিপিটি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নতুন ফিচার নিয়ে এলো চ্যাটজিপিটি
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার আরও নিরাপদ করতে নতুন ফিচার চালু করেছে ওপেনএআই। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে ‘চ্যাটজিপিটি ফর টিনস’। এতে শেখা, সৃজনশীল কাজ ও তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগের পাশাপাশি সংবেদনশীল কনটেন্ট থেকে সুরক্ষায় বাড়তি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Advertisement

এটি আলাদা কোনো অ্যাপ নয়। চ্যাটজিপিটির মধ্যেই কিশোরদের জন্য এই বিশেষ অভিজ্ঞতা চালু হবে। কোনো ব্যবহারকারী ১৮ বছরের কম বয়সী বলে সিস্টেমের ধারণা হলে, অথবা ব্যবহারকারী নিজে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী বলে জানালে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিন অভিজ্ঞতায় নেওয়া হতে পারে।

কিশোরদের অ্যাকাউন্টে সংবেদনশীল কনটেন্ট কমানোর ব্যবস্থা ডিফল্টভাবে চালু থাকবে। এর আওতায় গ্রাফিক সহিংসতা, ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাল চ্যালেঞ্জ, যৌন বা রোমান্টিক রোলপ্লে, সহিংস রোলপ্লে এবং অতিরিক্ত সৌন্দর্যের মানদণ্ড, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট বা শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে—এমন কনটেন্টে চ্যাটজিপিটি তুলনামূলক সতর্কভাবে সাড়া দেবে। আত্মক্ষতি, সহিংসতা, খাওয়াদাওয়াসংক্রান্ত মানসিক সমস্যা ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের মতো উচ্চঝুঁকির বিষয়েও বাড়তি সুরক্ষা থাকবে।

তবে ওপেনএআই বলছে, কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাই শতভাগ নিখুঁত নয়। তাই প্রযুক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি কিশোরদের এআই ব্যবহারে পরিবার ও অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিভাবকেরা নিজেদের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কিশোরের অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন। এরপর তারা কিশোরের অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট কিছু সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

এর মধ্যে সংবেদনশীল কনটেন্ট কমানোর ব্যবস্থা, মেমোরি ব্যবহার, ভয়েস মোড, ছবি তৈরি ও সম্পাদনা এবং স্টাডি মোডের মতো সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার বন্ধ রাখার জন্য ‘কোয়াইট আওয়ারস’ নির্ধারণ করা যাবে।

পড়াশোনার ক্ষেত্রেও অভিভাবকেরা স্টাডি মোডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এতে কিশোরদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শেখা ও পড়াশোনাকেন্দ্রিক রাখার সুযোগ বাড়বে।

পেরেন্টাল কন্ট্রোল চালু করলেও অভিভাবকেরা সন্তানের ব্যক্তিগত কথোপকথন, চ্যাট হিস্ট্রি বা রিয়েল-টাইম কার্যক্রম দেখতে পারবেন না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থা সরাসরি নজরদারির সুযোগ দেয় না।

তবে গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকির সম্ভাবনা শনাক্ত হলে সীমিত পরিস্থিতিতে অভিভাবকের কাছে সেফটি নোটিফিকেশন পাঠানো হতে পারে। ওপেনএআইয়ের সিস্টেম আত্মক্ষতির গুরুতর ঝুঁকি বা সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত কথোপকথনের সংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা করে। এমন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত একটি ছোট পর্যালোচক দল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারে।

সেফটি নোটিফিকেশনে প্রয়োজনীয় সীমিত তথ্যই দেওয়া হবে; সন্তানের পুরো কথোপকথনের বিবরণ বা প্রতিলিপি অভিভাবকের কাছে পাঠানো হবে না।

কোনো কিশোর ব্যবহারকারী ১৮ বছর বয়সী হিসেবে শনাক্ত হলে ধীরে ধীরে তাকে টিন অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের অভিজ্ঞতায় নেওয়া হবে। তখন টিনদের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এবং ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটির সেটিংসের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাবেন।

যদি ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অভিভাবকের পেরেন্টাল কন্ট্রোল যুক্ত থাকে, সেটিও শেষ হয়ে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নোটিফিকেশন বন্ধ হবে।

ওপেনএআইয়ের লক্ষ্য কিশোরদের এআই ব্যবহার থেকে দূরে রাখা নয়। বরং তাদের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ পরিবেশে এআই ব্যবহার, শেখা ও সৃজনশীল কাজে সহায়তা করা। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কিশোরদের গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় অভিভাবকদের যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।