গবেষণায় চুরির অভিযোগে পদ হারালেন কেমব্রিজের অধ্যাপক

গবেষণায় ‘মেধাস্বত্ব চুরি’ (প্লেজিয়ারিজম) নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেসন আর্ডে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোসিওলজি অব এডুকেশন’-এর অধ্যাপক ও একই সঙ্গে জেসাস কলেজের ফেলো পদ থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরুর পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।
সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জেসন আর্ডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। সম্প্রতি তার পিএইচডি থিসিসের কিছু অংশ অন্য গবেষকদের কাজ থেকে নকল করার অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষক গোষ্ঠী।
তার একাডেমিক যোগ্যতার কিছু বিষয়ের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে আর্ডের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু দাবি; যেমন ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন দৌড় ও বিপুল অর্থ সংগ্রহের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর্ডের পাশে দাঁড়িয়ে অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু নতুন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
এক বিবৃতিতে জেসন আর্ডে জানান, তীব্র মানসিক চাপ ও পরিস্থিতিকে শান্ত করার জন্যই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে একে অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখতে নিষেধ করেন তিনি।
আর্ডের দাবি, প্রভাবশালী পদে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদদের পদ থেকে সরানোর জন্যই এই প্রচার চালানো হচ্ছে এবং এর পেছনে স্পষ্ট বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিছু কাজের ভুলত্রুটি স্বীকার করলেও নিজেকে একাডেমিক প্রতারক বলতে নারাজ তিনি। ইতোমধ্যে কেমব্রিজের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ তার সমর্থনে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন।
অটিজম জয় করে গড়ে ওঠা জেসন আর্ডের জীবনসংগ্রাম বহু মানুষের জন্য অনুকরণীয় ছিল। ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে না পারা এবং ১৮ বছর বয়সে এসে মাত্র লিখতে শেখা এই অধ্যাপকের স্মৃতিকথা ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’ চলতি মাসেই যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ড. আর্ডে জানিয়েছেন, কিছুটা বিরতি নিয়ে সুস্থ হয়ে তিনি আবারও একাডেমিক কাজে ফিরবেন।
.png)

