Advertisement

তামা ও কোবাল্ট রপ্তানি নিষিদ্ধ করল কঙ্গো

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
তামা ও কোবাল্ট রপ্তানি নিষিদ্ধ করল কঙ্গো
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর একটি খনি। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি) বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ আসে খনিজসম্পদ থেকে। রপ্তানি আয়ের বড় অংশ দেশে ধরে রাখতে তামা ও কোবাল্ট আকরিক রপ্তানি তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে মধ্য আফ্রিকার দেশটি।

রয়টার্সের হাতে আসা সরকারি আদেশ পর্যালোচনা করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কঙ্গোর এই সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) বেঞ্চমার্ক তামার দাম একপর্যায়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেট্রিক টন ১৪ হাজার ৩৬৯ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলারে ওঠে। এটি গত ২৯ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোবাল্ট উৎপাদক ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তামার অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ কঙ্গো।

দেশটির খনিমন্ত্রী লুই কাবাম্বা ওয়াতুম, বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী জুলিয়েন পালুকু এবং অর্থনীতিমন্ত্রী ড্যানিয়েল মুকোকোর স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, খনি পরিচালনাকারীদের উচ্চ মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করতেই তামা ও কোবাল্ট আকরিক রপ্তানির ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

কঙ্গোর সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটি ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭২৫ টন পরিশোধিত কপার ক্যাথোড ও ৫৩ হাজার ৯২৬ টন কপার আকরিক রপ্তানি করেছে।

স্থানীয় গলন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই ২০১৩, ২০১৯ ও ২০২৩ সালের সাময়িক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এবার দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত কাঠামো গ্রহণ করেছে সরকার।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির অধিকাংশ তামা ও কোবাল্ট এমনিতেই স্থানীয়ভাবে পরিশোধিত হয়। ফলে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত ইভানহো মাইন্স ও জিজিন মাইনিংয়ের কামোয়া-কাকুলা প্রকল্প কিছুটা প্রভাবিত হলেও বৈশ্বিক বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকতে পারে।