Advertisement

ইবোলায় মৃত্যুহার ৩০-৫০ শতাংশ, টিকা নিয়ে ‘সুখবর’

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইবোলায় মৃত্যুহার ৩০-৫০ শতাংশ, টিকা নিয়ে ‘সুখবর’
ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে অত্যন্ত মারাত্মক ও মরণব্যাধি সংক্রমণ ইবোলা। গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতুহার নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)।

Advertisement

সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। বছর শেষে রোগটি নিরাময়ে টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ‘সুখবর’ আসতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত ১৫ মে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে কঙ্গোতে এক হাজারের বেশি নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের ইবোলায় মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ২২৩ জনের সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত মাত্রা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ইবোলা ভাইরাসটি অনেক দিন ধরেই গোপনে ছড়াচ্ছিল। এদিকে প্রাদুর্ভাবটি এমন একটি খনিজসমৃদ্ধ এলাকায় ছড়িয়েছে, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ চলছে। ফলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডব্লিউএইচও’র উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগজীবাণু বিষয়ক দলের সদস্য আনাইস লেগান্ড জেনভায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতুর সংখ্যাটি বিশাল। এর অর্থ হলো, প্রতি ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পর্যন্ত মারা যেতে পারে।

তিনি বলেন, আশার কথা হলো, ইবোলায় আক্রান্ত একজন রোগী গত ২৭ মে কঙ্গোর একটি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনিই এই রোগে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরিপূর্ণ সেরে উঠেছেন।

ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কঙ্গোতে পৌঁছেছেন। দেশটির জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, রোগটি থামানো যেতে পারে। আমরা একসঙ্গে এই প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠব। আপনাদের সাহায্য করার জন্য আমার সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করব।

প্রায় ১০ কোটির বেশি মানুষের দেশটিতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে সেখানে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে গড়ে আক্রান্তদের অর্ধেকের মৃত্যু হয়েছে।

কঙ্গোর বাইরেও ছড়িয়েছে ইবোলা

এদিকে উগান্ডায় একজন ইবোলায় মারা গেছেন এবং আরও আটজন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই উগান্ডা সরকার দ্রুত কঙ্গোর সঙ্গে তাদের সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কঙ্গো সরকার বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে নাগরিকদের ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে একমত নয় বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা।

ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে যে, সীমান্ত বন্ধের ফলে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার বেড়ে যেতে পারে এবং রোগটি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

কেনিয়ার উচ্চ আদালত সেখানে আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি কোয়ারেন্টাইন ও চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে । যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, এই রোগে আক্রান্ত কাউকে তারা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেবে না।

বিচারক প্যাট্রিসিয়া নায়ুন্দি রায় দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির অধীনে কেনিয়ার মানবাধিকার সংস্থা কাতিবা ইনস্টিটিউটের আনা আপিলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ইবোলার সংস্পর্শে আসা বা এতে আক্রান্ত কাউকে কেনিয়া গ্রহণ করতে পারবে না।

কেনিয়ার আদালত আপাতত এমন একটি পরিকল্পনা বন্ধ করে দিয়েছে, যেখানে ইবোলায় আক্রান্ত বা সংস্পর্শে আসা মার্কিন নাগরিকদের কেনিয়ায় এনে কোয়ারেন্টাইন ও চিকিৎসা দেওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই বলেছিল, তারা ইবোলায় আক্রান্ত কাউকে নিজেদের দেশে ঢুকতে দেবে না।

এ কারণে কেনিয়ার মানবাধিকার সংগঠন কাতিবা ইনস্টিটিউট আদালতে আপিল করে। এরপর বিচারক প্যাট্রিসিয়া নায়ুন্দি রায় দেন, আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনিয়া ইবোলায় আক্রান্ত বা সংস্পর্শে আসা কাউকে গ্রহণ করতে পারবে না।

চিকিৎসা নিয়ে আশার আলো

এখন যে ইবোলা ভাইরাসের বুন্দিবুগিও ধরন ছড়াচ্ছে, তার জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা চিকিৎসা নেই।

তবে ডব্লিউএইচও বলেছে, এই রোগের টিকা ও চিকিৎসা পরীক্ষা করার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জ্যাঁ কাসেয়া জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের মধ্যে একটি টিকা তৈরি হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার বিমানবন্দরে ৪.৬ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, তারা আরও বড় আকারে মোট ১০০ টন ত্রাণসামগ্রী সাহায্য পাঠাবে।

গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। কঙ্গোতে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক প্রাদুর্ভাবে ৩ হাজার ৫০০ জন আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন মারা যান।