বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়ানোর শঙ্কায় সরানো হলো ৪৪ হাজার মানুষকে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একাধিক শহর থেকে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ অরেঞ্জ কাউন্টির গার্ডেন গ্রোভে একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে ফুটো হয়ে যাওয়া বিষাক্ত রাসায়নিকে ভরা একটি ট্যাংক বিকল হয়ে পড়বে। এ ছাড়াও ট্যাংকটিতে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
বিস্ফোরণ ঘটলে অরেঞ্জ কাউন্টির আকাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিষাক্ত এই রাসায়নিক। তাই পূর্বসতর্কতা হিসেবে শুক্রবার (২২ মে) একাধিক শহর থেকে ৪৪ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) গার্ডেন গ্রোভের ওই স্থাপনায় মিথাইল মেথাক্রাইলেট (এমএমএম) নামে রাসায়নিক ভর্তি একটি ট্যাংক থেকে বাষ্প নির্গমনের ঘটনা ঘটে। তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। স্থাপনাটিতে মোট তিনটি ট্যাংক রয়েছে। তার মধ্যে একটিতে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ট্যাংকটি ঠান্ডা করার জন্য একটি রিলিফ ভালভ ও ওভারহেড স্প্রিংকলার চালু করা হয়। তবে অন্য দুটি ট্যাংক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, ফলে সেগুলো ঝুঁকিমুক্ত।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আশাপাশের প্রায় ৯ বর্গমাইল এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অঞ্চলে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তাই গত দুই দিন ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিকেএন অ্যারোস্পেসের রাসায়নিক ট্যাংকের ছিদ্র রাতভর বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ গার্ডেন গ্রোভের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
শুক্রবার বাসিন্দাদের সরানোর আদেশের আওতায় এলাকা বৃদ্ধি করে সাইপ্রেস, স্ট্যানটন, অ্যানাহেইম, বুয়েনা পার্ক ও ওয়েস্টমিনস্টার শহরের কিছু বাসিন্দাকেও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) জানিয়েছে, এমএমএ প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তবে এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে শ্বাসকষ্টসহ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।
অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির অন্তর্বর্তীকালীন ফায়ার চিফ টিজে ম্যাকগভর্ন বলেন, বৃহস্পতিবার এলাকাটি খালি করার আদেশ জারি করা হয়েছিল, কিন্তু বাষ্পীয় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটনায় সেই রাতেই তা প্রত্যাহার করা হয়। মূলত কর্মীরা যখন একটি ট্যাংক থেকে রাসায়নিকটি অপসারণ ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন, তখন তারা বুঝতে পারেন যে ট্যাংকটির একটি ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রাসায়নিকটি সরানো সম্ভব নয়।
যদিও পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে নয় ও বিস্ফোরণের শঙ্কা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই রাসায়নিক এখনও বাতাসে শনাক্ত হয়নি। তবে এটি থেকে ফলের মতো গন্ধ ছড়াতে পারে। যদিও সেই গন্ধ পাওয়া মানেই এই নয় যে, কেউ ক্ষতিকর মাত্রায় রাসায়নিকটির সংস্পর্শে এসেছেন বা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির প্রধান ক্রেইগ কোভি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গার্ডেন গ্রোভের ওই শিল্প ট্যাংকে প্রায় ৭ হাজার গ্যালন এমএমএ রাসায়নিক রয়েছে। এটি প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত উদ্বায়ী, দাহ্য ও বিষাক্ত একটি পদার্থ। আমার পেছনে থাকা বিশেষজ্ঞরা যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় বের করতে না পারেন, তাহলে ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হতে পারে। আমরা শুধু জানি, এটি ব্যর্থ হবে, কিন্তু কখন হবে তা জানি না।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় কোভি বলেন, আমি আমার জীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর দেখিনি। সত্যি এটাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।... আমি ৩২ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিস বিভাগে কাজ করছি। এটিই আমার জীবনে অংশ নেওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ বিপজ্জনক ঘটনা। সম্ভাব্য বিস্ফোরণটা কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা বলা যাচ্ছে না। বিস্ফোরণ ঠিক কখন ঘটতে পারে, সেটাও অজানা।

