logo
Advertisement

ইরান যুদ্ধে থাড মিসাইলের অর্ধেক মজুত ফুরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে থাড মিসাইলের অর্ধেক মজুত ফুরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
টার্মিনাল হাই অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড)। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পাল্টা হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অত্যাধুনিক টার্মিনাল হাই অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ফুরিয়েছে। মার্কিন নির্মিত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইল’ বা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আকাশ পথে থেকে আসা ছোট, মাঝারি ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত এবং ধ্বংস করা যায়।

Advertisement

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরায়েলের দিকে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে দুই শতাধিক থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে রক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০টিরও বেশি এস-এম-৩ এবং এস-এম-৬ ইন্টারসেপ্টরও উৎক্ষেপণ করেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল নিজেদের প্রায় ১০০টি অ্যারো ইন্টারসেপ্টর ও প্রায় ৯০টি ডেভিড স্লিং সিস্টেম ছুড়েছে। অ্যারো মিসাইল ইসরায়েলের নিজস্ব প্রযুক্তি নির্মিত অস্ত্র।

সবমিলিয়ে ইসরায়েলকে রক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি বাহিনীর চেয়ে দ্বিগুণ উন্নতমানের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে মার্কিন থাড মিসাইলের অর্ধেক মজুত ফুরিয়ে গেছে।

তিনি বলন, ইসরায়েল একা যুদ্ধ করতে এবং জিততে সক্ষম নয়। কিন্তু আসলে এটা কেউ জানে না, কারণ তারা কখনো এর পেছনের দিকটা দেখে না।

টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলের বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল অ্যারো সিস্টেম। এর মধ্যে অ্যারো-২ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশ উভয় স্থানেই কাজ করে।

অ্যারো-৩ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষমা একটি অ্যারো-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার। এটি তৈরি করতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। যদিও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইসরায়েল অ্যারো-৩ ক্ষেপণাস্তের সঠিক সময়সীমা প্রকাশ করে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারে। কারণ মজুতে টান পড়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। কিন্তু পেন্টাগন জোর দিয়ে দাবি করেছিল, তাদের কাছে পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক গোলাবারুদ রয়েছে।

ইসরায়েলেরও নাকি একই দশা। তবে তেল আবিব এই খবর নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নেই। গত মাসে তারা অ্যারো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।

জানা গেছে, যুদ্ধ চলাকালে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ২১ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক, বিদেশি নাগরিক ও পশ্চিম তীরের চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

সবমিলিয়ে, শত শত কেজির বিস্ফোরকসহ প্রচলিত ওয়ারহেড বহনকারী অন্তত ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও, ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রের জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার ৫০টিরও বেশি ঘটনা ঘটেছে।