বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত ভারতের একাধিক রাজ্য

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষত দেশের উত্তর এবং পূর্ব অংশে। সমতলে গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও নেপাল ও ভুটান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি নদীগুলো বন্যার আশঙ্কা আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ বিহার উড়িষ্যা পশ্চিমবঙ্গে। অন্যদিকে সিকিম দার্জিলিংয়ের মতো এলাকাগুলো একটানা বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের কবলে পড়েছে।
গত দুদিনে উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলার ৬৩টিতেই স্বাভাবিকের তুলনায় ভারী বা অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। এই দুদিনের মধ্যে বন্যা এবং অতিবৃষ্টিসংক্রান্ত কারণে ওই রাজ্যে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অযোধ্যায় মৃত্যু হয়েছে দুজনের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অমেঠী, বস্তি, ফতেপুরসহ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির দাপট বেড়েছে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদী উপচে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ওড়িশায়। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যাওয়ার আগে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে শনিবার ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যায় প্রশাসন।
এখন পর্যন্ত ৩৯৫টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বন্যাকবলিত বালাসোর, ময়ূরভঞ্জ, কোরাপুট, কেওনঝড়, জগতসিংহপুর, জয়পুরের মতো জেলাগুলোর পরিস্থিতি আজ খতিয়ে দেখার কথা সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির। উপকূলীয় জেলা বালাসোরে তিনটি নদীর জল বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক সেতু ও রাস্তাঘাট।
একদিকে ভারী বৃষ্টি অন্যদিকে নেপাল থেকে নেমে এসো নারায়ণী নদীর পানি বিপদ বাড়াচ্ছে গঙ্গাতেও। বিহারের ছটি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া এবং মালদা জেলা, আবারও বন্যার আশঙ্কায় ভুগছে। ইতিমধ্যেই জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপুরে শনিবার থেকে বেশকিছু এলাকা নতুন করে জলমগ্ন হয়েছে। বিহারে নেপাল এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে গণ্ডক, কোসি ও অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেবভূমি উত্তরাখন্ডে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় চারধাম যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ৫টি জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ছত্রিশগড়ে ক্রমাগত ভারী বর্ষণের কারণে বাস্তার, দন্তেওয়াড়া, কঙ্কের, কোণ্ডাগাঁওসহ ৮টি জেলায় নদীর পানি বেড়ে গ্রাম ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে আকস্মিক বন্যা ও বারবার ধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩২টি বাড়ি, চারটি সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন পরিকাঠামো। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় গ্রামটিকে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সিঙ্গলিতামের খাড়া ঢাল ধসতে শুরু করায় বিপদ ঘনাচ্ছে সেই অগস্ট মাস থেকে। শুধু ওই মাসেই প্রবল বৃষ্টিপাত ও ধসে প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্রামবাসীকে।
