ইবোলা মোকাবিলায় ১০৭ মিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল ছাড়ের ঘোষণা সিডিসির

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি) ও উগান্ডায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১০৭ মিলিয়ন (১০ কোটি ৭০ লাখ) ডলারের একটি জরুরি তহবিল ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ চলার কারণে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটছে। এমন সময়ে কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবকে ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে শক্তিশালী সহায়তার তাগিদ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে এটি বাতাসে ছড়ায় না বলে বৈশ্বিক ঝুঁকির মাত্রা এখনো বেশ কম।
শুক্রবার (১৯ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
সিডিসি-র ইবোলা মোকাবিলা কার্যক্রমের ইনসিডেন্ট ম্যানেজার ড. সতীশ কে পিল্লাই জানান, গাণিতিক মডেলিং অনুসারে বর্তমানে ডিআরসির ৩১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।
তবে গত ১৫ জুন পর্যন্ত অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, ডিআরসি-তে ৮৩৭ জন এবং উগান্ডায় ১৯ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে উভয় দেশ মিলিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯৮ জনের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আফ্রিকায় সিডিসির ১৪৮ জন কর্মী কাজ করছেন এবং যে কোনো জরুরি অবস্থা এড়াতে আমেরিকার বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার বিশেষ বৈঠক করা হচ্ছে।
প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবটি মূলত ‘বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত রোগ’ (বিভিডি), যা ইবোলার একটি বিরল ও মারাত্মক প্রজাতি। এটি এক ধরনের রক্তক্ষরণকারী জ্বর যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায় ও এতে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষই মারা যান।
আফ্রিকান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সংক্রমণের বর্তমান হার বজায় থাকলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত এক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
এই রোগটি প্রধানত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, শারীরিক নিঃসরণ ও ভাইরাসে দূষিত কোনো বস্তুর সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি কোভিড-১৯ বা হামের মতো বায়ুবাহিত রোগ না হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ ২২টি দেশ এই অঞ্চলের মানুষের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ও মরদেহ বহনের যানবাহনের তীব্র ঘাটতি রোগটি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে উল্টো ব্যাহত করছে।
আফ্রিকার স্বাস্থ্য নেতাদের তথ্যমতে, সিডিসির দেওয়া এই ১০৭ মিলিয়ন ডলার পূর্বে প্রতিশ্রুত ৯১০ মিলিয়ন ডলার তহবিলের সঙ্গে যুক্ত হবে, যার মাত্র ১০ শতাংশের কম অর্থ আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
সিডিসি জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য এখন কঙ্গো ও উগান্ডায় প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাতায়াতের কারণে যদি আকস্মিকভাবে আমেরিকায় কোনো সংক্রমণ দেখা দেয়, তবে তা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি শতভাগ নিশ্চিত রাখা।
