আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কবে, জানাল ইরান

নিহতের প্রায় চার মাসের মাথায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফনের বিষয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে ইরান। তার দাফন ঘিরে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২ জুন) ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
রাজধানী তেহরানের উপ-সিটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান, ধর্মীয় শহর কোম ও মাশহাদে এই শেষকৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, তেহরানে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী একটি বিশেষ শোক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কখন ও কোথায় দাফন
মেয়র তাভাকোলিজাদেহ জানান, মাশহাদেই দাফনকাজ সম্পন্ন হবে খামেনির। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি তিনি।
তেহরানের উপ-সিটি মেয়র জানান, খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠান ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মহররমের শুরুতে হতে পারে, যা জুনের মাঝামাঝি সময়ে পড়বে।
ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদ শহরেই জন্মগ্রহণ করেন খামেনি। সেখানে ইমাম রেজার মাজার এলাকায় তার বাবাকে দাফন করা হয়েছিল।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন তিনি। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েল তাকে হত্যার দাবি জানায়।
যদিও ইরান দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে চুপ ছিল। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র। ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পরে ৪ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় আয়োজনের প্রস্তুতিতে জটিলতা দেখা দেয় এবং অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।
সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছিল, ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে সুপ্রিম লিডারকে সমাহিত করা হবে। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহর হচ্ছে তার জন্মস্থান। মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাবার সমাধিও রয়েছে।
দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে খামেনিকে শেষবিদায় জানাতে ‘বড়সড়’ আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দেয় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
পরে অনুষ্ঠানের নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করার কথা জানালেও দীর্ঘসময় এ বিষয়ে কিছু বলেনি ইরানের কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনিও বাবা আয়াতুল্লাহর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু জানানটি।




