মুসলিম অধ্যুষিত দ্বীপে মদ বিক্রির অনুমতি দিল ভারত

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ও মুসলিম অধ্যুষিত লক্ষদ্বীপে এবার মদপানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত সরকার।
সোমবার (৮ জুন) কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এখন থেকে বৈধভাবে মদ বিক্রি ও পানের অনুমতি দেওয়া হবে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, স্থানীয় পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ও বিদেশি পর্যটকদের আরও বেশি আকৃষ্ট করতেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪৭ বছর ধরে মদপানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল, যা এই প্রথম শিথিল করা হলো।
লাক্ষাদ্বীপের ৯৭ শতাংশ নাগরিকই মুসলিম হলেও তারা মূলত তপসিলি উপজাতি। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বর্তমান ৬৪ হাজার ৪৭৩ জনের মধ্যে ৬১ হাজার ১২০ জনই ওই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
ইসলাম ধর্মে মদপান নিষিদ্ধ হওয়ায় সেখানকার বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করেই মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। গত কয়েক দশক ধরে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা কখনওই পুরোপুরি সর্বব্যাপী ছিল না। পর্যটক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের মাধ্যমে মদপানের সুযোগ ছিল। বিশেষ করে কাভারাত্তি ও বাঙ্গারাম দ্বীপের রিসোর্টগুলোতে।
কিন্তু কেন এতদিনের আইনে বদল আনল প্রশাসন? মনে করা হচ্ছে, মোদি সরকার অনেক দিন ধরেই লাক্ষাদ্বীপকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তি, মদের সহজলভ্যতা না থাকার কারণে লাক্ষাদ্বীপ পিছিয়ে রয়েছে বহু পর্যটন কেন্দ্রের থেকে। আর সেই কারণেই এবার আইনে এই পরিবর্তন।
২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লাক্ষাদ্বীপ সফরে যান। স্থানীয়দের সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। সকলের সঙ্গে উপকূলের অপরূপ সৌন্দর্যও উপভোগ করেন তিনি। ছবিগুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
আর এরপর থেকেই সেখানে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে যেখানে লাক্ষাদ্বীপের পর্যটক সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৭৫, সেখানে তা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৮ হাজার ৩২৮-এ। আর মোদির সফরের পর তা আরও বেড়ে গেছে। এবার সেই বাড়তে থাকা পর্যটক সংখ্যার কথা মাথায় রেখেই মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞাও এবার তুলে দিল কেন্দ্র।
তবে মদের ওপর করের হার অনেক বেশি রাখা হয়েছে। ভারতে তৈরি বিদেশি মদ (আইএমএফএল) ও আমদানিকৃত বিদেশি মদের ওপর ৪০০ শতাংশ, বিয়ারের ওপর ২০০ শতাংশ এবং ওয়াইনের ওপর ৮০ শতাংশ আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে দিল্লিতে এসব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে।
নতুন নিয়মে মদের অবাধ বাজার তৈরি হচ্ছে না। প্রশাসক চাইলে পুরো লাক্ষাদ্বীপ বা এর কোনো অংশে মদ বিক্রি, কেনা, বহন ও সেবনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ বা নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে পারবেন। এ ছাড়া ২১ বছরের কম বয়সিদের কাছে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
লাক্ষাদ্বীপে মোট ৩৬টি দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে ১০টিতে স্থায়ী জনবসতি আছে। এগুলো হলো আগাত্তি, আমিনি, আন্দ্রোট, বিত্রা, চেতলাট, কাদমাত, কালপেনি, কাভারাত্তি, কিলতান ও মিনিকয়। বর্তমানে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের লাক্ষাদ্বীপে যেতে বিশেষ অনুমতিপত্র নিতে হয়। বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ কেবল আগাত্তি, বাঙ্গারাম ও কাদমাত দ্বীপে সীমাবদ্ধ।
